ইয়েমেনের কৌশলগত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। শুক্রবার প্রণালির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মায়ুন (পারিম) দ্বীপটি নিজেদের দখলে নেওয়ার দাবি করেছে তারা। এর ফলে আন্তর্জাতিক এই জলপথে হুতিদের আধিপত্য আরও জোরালো হলো। এদিকে, ইয়েমেনের এই পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সামরিক সাহায্য চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনী মায়ুন দ্বীপ থেকে পিছু হটে। এরপরই হুতি যোদ্ধারা নৌকাযোগে সেখানে পৌঁছে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, হুতিরা এখন বাব এল-মান্দেব এলাকা ও প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হুতি যোদ্ধারা বাব এল-মান্দেবের উপকূলজুড়ে অবস্থান নিয়েছে এবং সামরিক যান নিয়ে টহল দিচ্ছে। এই পাহাড়ি দ্বীপটি থেকে পুরো প্রণালির ওপর সহজেই নজরদারি চালানো সম্ভব।
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল-মান্দেব প্রণালিটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথ দিয়েই পণ্যবাহী জাহাজগুলো লোহিত সাগরে প্রবেশ করে সুয়েজ খালের দিকে এগিয়ে যায়। বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল পরিবহনের জন্য এই জলপথের গুরুত্ব অপরিসীম। এই প্রণালির সংলগ্ন চারটি কৌশলগত দ্বীপ হলো জুকার, মায়ুন, গ্রেট হানিশ ও লিটল হানিশ। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবারই জুকার দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল হুতিরা। বর্তমানে হানিশ দ্বীপপুঞ্জে সরকারি বাহিনীর দুই হাজারের বেশি সেনাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং তাদের আত্মসমর্পণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে সামরিক সূত্রে জানা গেছে। অবরুদ্ধ এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেখানে থাকা সেনারা খাবার, পানি ও জরুরি উদ্ধার সহায়তা চেয়েছেন, যার জন্য বিমান পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে ইয়েমেনের এই নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ফোনালাপে যুবরাজ পরিস্থিতির অবনতির কথা ট্রাম্পকে জানান। এর কয়েক ঘণ্টা পর দ্বিতীয়বার ফোন করে তিনি হুতিদের ওপর মার্কিন বিমান হামলা চালানোর অনুরোধ জানান। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদির এই অনুরোধে সাড়া দেননি।
অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেও ওয়াশিংটন হুতিদের গতিবিধি সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর বিবরণ রিয়াদকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবে মোতায়েন থাকা দুই শতাধিক মার্কিন সেনা রিয়াদকে ‘নন-কাইনেটিক’ বা অ-সামরিক সহায়তা প্রদান করছে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজের প্রথম ফোনালাপের সময় হুতিরা উপকূলীয় শহর মোচার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এবং পরবর্তীতে তারা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর পরদিনই মায়ুন দ্বীপ নিজেদের দখলে নিয়ে বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল হুতিরা।

