ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষতার স্বীকৃতি দিতে এবার আয়োজন করা হচ্ছে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’। এই আয়োজনে অনুষদের অধীন ১৬টি বিভাগের ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সেশনের মোট ৪৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে এই সম্মাননা দেওয়া হবে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৭ জন ছাত্র এবং ৩১ জন ছাত্রী রয়েছেন। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এই তথ্য জানান। এ সময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তী হায়দার এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. খোরশেদ আলম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গেস্ট অব অনার হিসেবে থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্-আল-মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী ও অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম।
২০০৬ সালে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষতার স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে এই পুরস্কার চালু করা হয়। অনুষদের ১৬টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হন। পাঁচ বছর বিরতির পর এবার এই প্রতিযোগিতামূলক একাডেমিক স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
এবারের আয়োজনে শুধু শিক্ষার্থীদের সাফল্যই নয়, শিক্ষকদের গবেষণা ও প্রকাশনাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালে প্রকাশিত শিক্ষকদের নিবন্ধ ও বই থেকে বিচারকদের মনোনীত সেরা কাজগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে। মূল অনুষ্ঠান শেষে ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে একটি উন্মুক্ত সংলাপের আয়োজন করা হবে।
পুরস্কারের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগের চেয়ারপারসনের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। বিএসএস (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর যোগ্য শিক্ষার্থীরা মার্কশিট বা ট্রান্সক্রিপ্টের সত্যায়িত কপি জমা দিয়ে আবেদন করেন। যোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনকারী অথবা ৪.০০-এর মধ্যে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের বিবেচনা করা হয়। ২০২০ সাল থেকে এই পুরস্কারের জন্য ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৬৫ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং শিক্ষাজীবনে কোনো ‘ব্রেক অব স্টাডি’ বা ফলাফল উন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের রেকর্ড থাকলে শিক্ষার্থী পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হন না। যেসব বিভাগে স্নাতক প্রোগ্রাম নেই, তাদের ক্ষেত্রে মাস্টার্স চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফলকে ভিত্তি ধরা হয়।

