ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা, সংসদে আলোচনা ও সরকারের পদক্ষেপ

ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাকে দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এই ঘটনার বিষয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, ইতালির রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানের কনস্যুলেট জেনারেল বর্তমানে বাঁধনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, অভিনেত্রী বাঁধন ইতালির পুলিশের কাছে এবং দূতাবাসে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবেন। বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তুলে ধরবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে কোনোভাবেই পিছপা হবে না।

সংসদে এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী এবং এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এই হামলার ঘটনার নিন্দা জানান এবং সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এই হামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার কথা উল্লেখ করে জানতে চান, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, আজ সকালে তিনি পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিকেলে বাঁধনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষও ইতিমধ্যে ঘটনার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এই ঘটনাকে অমার্জনীয় ও নিন্দনীয় অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে সরকারের পদক্ষেপের অগ্রগতি পরবর্তী সময়ে সংসদকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

কারণ, আমরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছি।