গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানোর দাবিতে আজ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এই শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে সরকারের কাছে প্রশাসনিক সহযোগিতা চেয়েছেন জোটের নেতারা। তবে কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হলে সরকার তীব্র জনরোষের মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট দূর করা, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে আজ এই শান্তিপূর্ণ লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কোনো ধরনের উসকানি বা প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি না করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি কেউ এই কর্মসূচিতে বাধা দেয়, তবে তারা জনগণের আস্থা হারাবে এবং চরম জনরোষের মুখোমুখি হবে। বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে নিয়মতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
গণভোটের বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করে জামায়াত নেতা বলেন, বর্তমান সরকার গঠনের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গণভোটের রায়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়ে গেছে এবং এতে কোনো ভিন্নমত নেই। তারা সরকার পতনের কোনো আন্দোলন করছেন না, বরং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে জনগণের ৬ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এই লংমার্চের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে যে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরমতসহিষ্ণুতা ফিরে এসেছে এবং সহিংসতার নেতিবাচক ধারা থেকে দলগুলো বেরিয়ে এসেছে।
আজ ৫ই সেপ্টেম্বরের এই লংমার্চের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসনের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) কর্মসূচির বিষয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শুরু হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মিরেরসরাইয়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে এক বিশাল জনসভার মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হবে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান ও অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা ফখরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা মাওলানা আবদুল হালিম, এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ৬ই আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশের চারটি বিভাগীয় শহরে লংমার্চ ও মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সেই অনুযায়ী, আজ চট্টগ্রামের পর আগামী ১৯শে সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ই অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪শে অক্টোবর রেলপথে ঢাকা থেকে সিলেটে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে আগামী ১৪ই নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

