প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে কারাবন্দি থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতির ঘটনায় এবার উদ্বেগ জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার, বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সাবেক প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশরাফুল হক। পাকিস্তান সরকারের আচরণকে ‘বর্বরতা’ আখ্যা দিয়ে তিনি অবিলম্বে ইমরান খানের সঙ্গে অমানবিক আচরণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আশরাফুল হক বলেন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতিতে আসা ইমরান খানের প্রতি এই অমানবিক আচরণ কোনো সভ্য দেশের কাছে কাম্য নয়। তিনি আরও বলেন, মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে এই কারাবাস সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক।
ইমরান খানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে আশরাফুল হক জানান, ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাহোর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ঢাকায় খেলতে এসে ইমরানের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। সে সময় ওই ম্যাচে ইমরান শুধু দুর্দান্ত বোলিংই করেননি, সেঞ্চুরিও করেছিলেন। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডে পড়াশোনার সময় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিবল কলেজেও তাদের নিয়মিত দেখা হতো। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় পাকিস্তানের সফরের সময়ও তাদের দেখা হয়েছে। এমনকি ইমরান রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরও তাদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল। রাজনৈতিক মতভেদের কারণে ইমরানের জীবন নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করলেও, ইমরান সবসময় বলতেন, যদি তার ভাগ্যেই মৃত্যু লেখা থাকে, তবে তিনি তা মেনে নেবেন, যা আল্লাহর ইচ্ছা।
বিবৃতিতে আশরাফুল হক আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার জন্য পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা ছিল ইমরানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। এছাড়া নব্বইয়ের দশকে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে ইমরান ও তার পরিবারের সঙ্গে নৌভ্রমণের স্মৃতিও তিনি তুলে ধরেন। সম্প্রতি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানের চিকিৎসার নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের কাছে চিঠি লিখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় আশরাফুল হকও এই প্রতিবাদে শামিল হলেন।
ক্রিকেটে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে কারাবন্দি।
১৯৯০-এর দশকে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে ইমরানের পরিবারের সঙ্গে নৌভ্রমণের স্মৃতিও তার মনে আছে।

