মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নারকে জরিমানা করেছে আদালত। একই সঙ্গে তার গাড়িতে এক বছরের জন্য ‘ইন্টারলক’ ডিভাইস ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার ওয়েভারলি লোকাল কোর্ট এই রায় ঘোষণা করে। গত মাসে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছিলেন এই সাবেক ওপেনার।
ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইস্টার সানডেতে একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে ওয়ার্নার তিন গ্লাস ওয়াইন পান করেছিলেন। এরপর নিজের পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে পুলিশের ‘র্যান্ডম ব্রেথ টেস্টিং’ (আরবিটি) জোন দেখে তিনি গাড়ি থামিয়ে ফেলেন এবং এক নারী যাত্রীর সঙ্গে নিজের আসন বদলানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ তাকে চালকের আসনেই শনাক্ত করে। পরবর্তীতে তিনি পরীক্ষায় সহযোগিতা করেন এবং তার শরীরে আইনি সীমার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি অ্যালকোহল পাওয়া যায়। গাড়িতে তার সন্তানরা থাকায় অপরাধের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিচারক ক্লেয়ার ফারনান।
আদালতে শুনানির সময় ওয়ার্নারের আইনজীবী আওয়াইস আহমাদ দাবি করেন, এই ঘটনার সংবাদ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় তার মক্কেলের পেশাগত ও বাণিজ্যিক ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে খেলার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিচারক ক্লেয়ার ফারনান বলেন, ওয়ার্নারের মতো বিশ্বখ্যাত একজন ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে এমন ঘটনার নেতিবাচক প্রচার হওয়াটাই স্বাভাবিক। এছাড়া পুলিশকে এড়াতে আসন বদলের চেষ্টা তার আচরণকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে না। তবে বিচারক আশা প্রকাশ করেন যে, ওয়ার্নার পুনরায় এই অপরাধ করবেন না। নিউ সাউথ ওয়েলসে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো হওয়ায়, সাধারণ মানুষকে সচেতন ও ও এই কাজে নিরুৎসাহিত করতেই তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
আদালত ওয়ার্নারকে ১ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা করেছে। এছাড়া তাকে এখন ইন্টারলক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে গাড়িতে বিশেষ ডিভাইস স্থাপন করতে হবে। এই ডিভাইসটি গাড়ি চালুর আগে তার শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি পরীক্ষা করবে এবং অ্যালকোহল পাওয়া গেলে গাড়ির ইঞ্জিন চালু হতে দেবে না। এই সাজার কারণে বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) তার দল সিডনি থান্ডারের অধিনায়কত্ব হারানোর ঝুঁকিতেও পড়েছেন ওয়ার্নার।

