অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাচসেরা হাসান মাহমুদের নামটাই সবার আগে মনে পড়বে। মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে স্টিভ স্মিথের ক্যাচবন্দী হওয়া, তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি উদ্যাপন কিংবা মুমিনুল হকের চারে নেমে ম্যাচ জেতানো মুহূর্তগুলোর পাশাপাশি দুই হাত তুলে আকাশে তাকিয়ে থাকা হাসান মাহমুদের সেই ছবিটা ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে দীর্ঘকাল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার ৫ উইকেট নেওয়ার পর টেস্ট ক্রিকেটে ৪০০ থেকে ৫০০ উইকেট নেওয়ার স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন এই পেসার। বাংলাদেশের কোনো পেসার যেখানে এখনো ১০০ উইকেটও পাননি, সেখানে হাসানের এই স্বপ্নকে অনেকেই হয়তো অবাস্তব ভাবতে পারেন। তবে হাসান এটি কোনো হেঁয়ালি বা স্রেফ বলার জন্য বলেননি, নিজের মন থেকেই এই লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন তিনি।
হাসানের এমন বড় লক্ষ্যের কথা শুনে কেউ তাকে উদ্ধত ভাবলে ভুল করবেন। মাঠে ব্যাটসম্যানদের মন খারাপ হবে ভেবে যিনি উইকেট পাওয়ার পরও উদ্যাপন করতে চান না, তিনি আসলে অত্যন্ত মৃদুভাষী ও নম্র স্বভাবের। ধীরস্থিরভাবে গুছিয়ে কথা বলা এই ক্রিকেটারের ক্রিকেটীয় বোধও অত্যন্ত প্রখর। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে হয়তো বড় কোনো মুখরোচক শিরোনাম তিনি দেন না, কিন্তু তার প্রতিটি কথায় থাকে নিখাদ ক্রিকেটীয় গল্প।
ক্যারিয়ারের শুরুতে হাসান মাহমুদকে অনেকেই কেবল সাদা বলের বোলার হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। ২০২০ সালে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর বছরখানেকের মধ্যে ওয়ানডে দলেও তার জায়গা হয়। গতি আর দুর্দান্ত ইয়র্কার দেওয়ার সামর্থ্য থাকলেও চোটের শঙ্কা সবসময় তাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে। তবে সব বাধা পেরিয়ে রঙিন পোশাকে অভিষেকের চার বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখেন তিনি। চোটের ধাক্কা সামলে লাল বলের ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরতে কাউন্টিতেও খেলেছেন হাসান।
বর্তমানে দুই দিকে বল সুইং করানো এবং নিখুঁত লেংথ বজায় রাখার অসাধারণ দক্ষতার কারণে বিশ্ব ক্রিকেটে হাসানকে নিয়ে আলোচনা চলছে। পাকিস্তান ও ভারতে ৫ উইকেট শিকারের পর অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমেও কাঁপন ধরিয়েছেন তিনি। ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়ে ম্যাচসেরা হয়ে হাসান মাহমুদ নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় খোদাই করে নিয়েছেন। প্রতিদিন এবং প্রতি সেকেন্ডে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার যে গল্প হাসান শুনিয়েছেন, তা ক্রিকেটপ্রেমীরা দীর্ঘকাল মনে রাখবেন。
না পাওয়ার সম্ভাবনার বাজির দরই হয়তো ৯৯ বনাম ১।

