নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জন নিয়ে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। ১৬ আগস্ট রোববার বোর্ডের এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
শিক্ষা বোর্ডের আদেশে বলা হয়েছে, ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ সাফল্য ও জিপিএ-৫ অর্জন নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে, যা বোর্ডের নজরে এসেছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে সশরীরে বোর্ডে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও তলব করা হয়েছে।
বোর্ড যেসব তথ্য চেয়েছে তার মধ্যে রয়েছে নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য, ভর্তি সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র, এসএসসির নির্বাচনি (টেস্ট) পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের তালিকা এবং চূড়ান্ত এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণকারী শিক্ষার্থীদের তথ্য। বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বা ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, স্কুলটি শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নির্বাচনি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করতে না দেওয়া বা তাদের ছাঁটাই করার মতো কৌশল অবলম্বন করে। তথ্যমতে, ২০২৪ সালে নবম শ্রেণিতে ৬০১ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করলেও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে মাত্র ৩৮২ জন। অর্থাৎ, টেস্ট পরীক্ষার মাধ্যমে ২১৯ জন শিক্ষার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, টেস্ট পরীক্ষায় ৪৮৩ জন অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ১০১ জন অকৃতকার্য হওয়ায় ৩৮২ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা অনেক শিক্ষার্থীকে নরসিংদীর সানবীন স্কুল, ঘোড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, নরসিংদী মডেল স্কুল এবং সান শাইন মডেল হাই স্কুলে ভর্তি করিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানো হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সানবীন স্কুলেই ৫০ জন ভর্তি হয়ে পরীক্ষা দিয়েছে, যাদের মধ্যে ২৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ‘খ্যাতি’ ধরে রাখতে নির্বাচনি পরীক্ষায় অত্যন্ত কঠিন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং খাতা মূল্যায়নে অতি-কঠোর নীতি অনুসরণ করা হয়। এর মাধ্যমে কেবল নিশ্চিত জিপিএ-৫ প্রত্যাশীদের চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য বাছাই করা হয় এবং মাঝারি মানের শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্য হিসেবে চিহ্নিত করে ঝরিয়ে দেওয়া হয়।
সেগুলো হলো- ৯ম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের তথ্য, ভর্তি সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র, এসএসসির নির্বাচনি (টেস্ট) পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের তালিকা, চূড়ান্ত পর্যায়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণকারী শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, যেসব শিক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদের অনেককেই নরসিংদীর সানবীন স্কুলে, ঘোড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে, নরসিংদী মডেল স্কুলে, সান শাইন মডেল হাই স্কুলে ভর্তি হয়ে পরীক্ষা দিয়েছে। এসব স্কুলের মধ্যে নরসিংদীর সানবীন স্কুলে ভর্তি হয়ে পরীক্ষা দিয়েছে ৫০ জন। এদের মধ্যে ২৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ঘো

