ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজনে সরকারি অর্থায়নের সম্ভাবনা নাকচ

ব্রাজিল ও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের মধ্যকার প্রস্তাবিত প্রীতি ম্যাচটি আয়োজন করা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই ম্যাচের জন্য বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করার কোনো মানসিকতা সরকারের নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সরকার এই ম্যাচের পেছনে কোনো আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে না।

ম্যাচটি আয়োজনের সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি শুনেছেন যে থার্ড পার্টির মাধ্যমে এই ম্যাচ আয়োজন করতে প্রায় ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। তবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে ম্যাচ আয়োজনের পক্ষে সরকার নেই। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানিসংকটসহ দেশের বর্তমান নানা সংকটের মুহূর্তে এমন বিশাল ব্যয়ভার বহন করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।

বাফুফে সভাপতির সঙ্গে এ বিষয়ে মৌখিক আলোচনার কথা উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, তিনি বাফুফেকে জানিয়েছেন যে সরকারি সহায়তা পাওয়া সম্ভব নয়। তবে বাফুফে যদি নিজস্ব উদ্যোগে কোনো বেসরকারি স্পনসর জোগাড় করতে পারে, তবে সরকার ম্যাচ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে। অতীতে ২০১১ সালে ঢাকায় আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার প্রীতি ম্যাচ আয়োজনে বাফুফেকে প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করতে হয়েছিল, যা মূলত করপোরেট স্পনসরশিপ, ব্যাংকঋণ ও টিকিট বিক্রির মাধ্যমে মেটানো হয়েছিল।

আর্থিক সীমাবদ্ধতার বাইরেও ফিফার নিয়মকানুন এই ম্যাচের ক্ষেত্রে বড় একটি বাধা। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোতে সর্বোচ্চ চারটি 'টায়ার-১' ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে, যা আসিয়ান কাপের চারটি ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের জন্য আগেই নির্ধারিত হয়ে আছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি হলে তা হবে পঞ্চম ম্যাচ, যা ফিফার নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর আগে রোববার ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে ৫ বা ৬ অক্টোবর ম্যাচটি আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সব মিলিয়ে ম্যাচটি হওয়ার সম্ভাবনা বর্তমানে বেশ ক্ষীণ।

তবে বাফুফে যদি কোনো বেসরকারি স্পনসর এনে ম্যাচ আয়োজন করতে পারে, তাহলে সরকার সার্বিক সহযোগিতা করবে।২০১১ সালে ঢাকায় আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার প্রীতি ম্যাচ আয়োজনে বাফুফের প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (তখনকার ডলারের হিসাবে প্রায় ২৬-২৭ কোটি টাকা) খরচ হয়েছিল।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোতে সর্বোচ্চ ৪টি ‘টায়ার-১’ ম্যাচ খেলা যাবে, যা ইতিমধ্যেই আসিয়ান কাপের ৪টি ম্যাচ দিয়ে নির্ধারিত বাংলাদেশের জন্য।