চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তেহরানের যুদ্ধ শুরুর পর ধারণা করা হয়েছিল যে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে সামনে আসতে পারেন। তবে কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় পাঁচ দশক ধরে ইরানের বাইরে বসবাসকারী রেজা পাহলভি পশ্চিমা দেশগুলোতে সক্রিয় প্রচারণা, অর্থ সংগ্রহ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যুদ্ধের শুরুতে তিনি এক্সে লিখেছিলেন, ইরানি জনগণ তাকে বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানিয়েছে এবং তিনি সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
টেক্সাসে যুক্তরাষ্ট্রের কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে (সিপ্যাক) ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক ও ইরানি-আমেরিকানদের কাছ থেকে তিনি বেশ উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছিলেন। তবে এর মাত্র চার দিন পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে ধ্বংস বা 'পাথর যুগে ফিরিয়ে দেয়ার' মতো মন্তব্য করলে প্রবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রেজা পাহলভি সেই মন্তব্যের নিন্দা না জানানোয় তার অনেক সমর্থক হতাশ হয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেয়নি। জানুয়ারিতে ট্রাম্প তাকে ভালো মানুষ মনে করলেও তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেন যে, রেজা পাহলভিকে নেতা বানানো ট্রাম্পের লক্ষ্য নয়।
নেতৃত্ব নিয়ে রেজা পাহলভির সমর্থকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অনেক সমর্থক অভিযোগ তুলেছেন যে, তিনি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং নিজের কট্টর সমর্থকদের দ্বারা ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হামলার ঘটনায় কঠোর অবস্থান নেননি। অবশ্য এসব সহিংস ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রেজা পাহলভি রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিজেকে এসব থেকে বিচ্ছিন্ন দাবি করেছেন। তিনি বর্তমান সরকারকে পতনের কাছাকাছি বলে মন্তব্য করলেও নেলসন ম্যান্ডেলা বা লেখ ভালেসার মতো দেশে কোনো সুসংগঠিত গণআন্দোলন গড়ে তুলতে পারেননি।
গামান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক অনলাইন জরিপে ৩১ হাজার ৪৫০ জন ইরানির মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ তাকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও, লন্ডন, ভিয়েনা ও নেদারল্যান্ডসে তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। যদিও রেজা পাহলভি এসবের নিন্দা জানিয়েছেন, তবে বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনও তেহরানের বর্তমান সরকারের সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, জনগণের সংগ্রাম স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য, কিন্তু ওয়াশিংটন এখনও ইরানে সরকার পরিবর্তনকে তাদের আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেনি।
ট্রাম্পপন্থীদের উষ্ণ অভ্যর্থনাগত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে (সিপ্যাক) রেজা পাহলভি উচ্ছ্বসিত অভ্যর্থনা পান। সেখানে উপস্থিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক এবং বিপুলসংখ্যক ইরানি-আমেরিকান তাকে দাঁড়িয়ে প্রায় ৪৫ সেকেন্ড করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। অনেকের হাতেই ছিল ইরানে

