প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ২১
ভোর ৬টা। অ্যালার্ম বাজার আগেই ঘুম ভেঙে যায় কর্মজীবী নারীর। দিনের শুরুতেই তার মাথায় ঘুরপাক খায় অগণিত হিসাব—সন্তানের টিফিনের আয়োজন, স্বামীর সকালের নাশতা, শ্বশুর-শাশুড়ির ওষুধ সেবনের সময়, গৃহকর্মীর উপস্থিতি কিংবা অনুপস্থিতির অনিশ্চয়তা, অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, রিপোর্ট জমা দেওয়া, বিকেলের বাজার এবং রাতের রান্নার পরিকল্পনা। পরিবারের সবার প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে নিজের জন্য কয়েক মিনিট সময়ও না নিয়ে তিনি ছুটে যান কর্মস্থলে। সেখানে তিনি একজন দক্ষ ব্যাংকার, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা কিংবা কর্মকর্তা। পেশাগত জায়গায় তাকে প্রতিদিন নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। দিনের শেষে যখন তিনি বাড়ি ফেরেন, তখনো তার জন্য অপেক্ষা করে আরেকটি পূর্ণকালীন দায়িত্ব—সংসার।
একজন কর্মজীবী নারীর প্রতিটি দিন যেন দুটি পূর্ণকালীন চাকরির সমতুল্য। তবে পার্থক্য হলো, অফিসের কাজের জন্য তিনি বেতন পেলেও ঘরের অধিকাংশ কাজের কোনো আর্থিক মূল্যায়ন, আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি কিংবা নির্ধারিত বিশ্রাম নেই। বর্তমান সময়ে শিক্ষা, প্রশাসন, ব্যবসা, প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও গবেষণার মতো প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন এবং দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারকেও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করলেও অধিকাংশ নারী সংসারের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাননি; বরং চাকরির পাশাপাশি গৃহস্থালির সব কাজ তাদের কাঁধেই থেকে গেছে।
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এই ভারসাম্যহীনতা আরও প্রকট হয়। একজন পুরুষ অফিস থেকে ফিরে বিশ্রাম নিলে সেটি স্বাভাবিক ধরা হলেও, একজন নারী অফিস শেষে বিশ্রাম নিতে চাইলে তাকে প্রায়শই শুনতে হয়—‘সংসারের কাজ তো করতেই হবে’ কিংবা ‘এত ক্লান্ত হওয়ার কী আছে?’ এই সামাজিক প্রত্যাশা তার মানসিক চাপকে আরও বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এই চাপ উদ্বেগ, অনিদ্রা, অবসাদ, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

