গাজার শিশুদের কাছে ঘুড়ি ওড়ানো একসময় শৈশবের আনন্দের অংশ ছিল। কিন্তু বর্তমানে ইসরাইলের নতুন এক ঘোষণায় সেই সাধারণ খেলাধুলাও এখন বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে গাজা থেকে ওড়ানো যেকোনো ঘুড়ি বা বেলুনকে ড্রোনের মতোই বিবেচনা করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, সম্প্রতি গাজা থেকে উড়ে আসা অন্তত চারটি ঘুড়ি সীমান্তসংলগ্ন ইসরাইলি কিবুতজ নাহাল ওজে গিয়ে পড়েছিল। ইসরাইলি সেনাবাহিনী ঘুড়িগুলো পরীক্ষা করে সেগুলোতে কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক কিছু পায়নি এবং এগুলোকে বিপজ্জনক হিসেবেও চিহ্নিত করেনি। তবুও এই ঘটনার পর ইসরাইল কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ জানান, গাজা থেকে ঘুড়ি ও বেলুন ওড়ানোর ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক, ঘুড়ি ও বেলুনকে ড্রোনের মতোই গণ্য করা হবে এবং এমন ঘটনা চলতে থাকলে শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘোষণায় গাজার বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে ভীতি সঞ্চার হয়েছে। উত্তর গাজার বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী মারওয়ান আল-হারাজিন, যিনি বর্তমানে দেইর আল-বালাহ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন, জানান যে তাঁবুর আশেপাশে শিশুরা প্রায়ই ঘুড়ি ওড়ায়। এখন অভিভাবকদের সন্তানদের এই খেলা থেকে বিরত রাখতে হবে। তিনি বলেন, ইসরাইলের যেকোনো হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন, কারণ হামলার অজুহাত তৈরির জন্য তাদের সামান্য কিছুই যথেষ্ট।
তবে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুখাইমার আবুসাদা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ আন্দোলনের সময়ের তুলনা করতে নারাজ। সে সময় আগুন লাগানোর সরঞ্জামযুক্ত ঘুড়ি ও বেলুন ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে শিশুদের হাতে থাকা ঘুড়িগুলো সাধারণ খেলনা মাত্র। আবুসাদার আশঙ্কা, ইসরাইল পুরোনো ঘটনার সঙ্গে বর্তমানের যোগসূত্র টেনে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তৈরি করতে পারে। গাজার মানুষ ইতিমধ্যে চরম দুর্ভোগে রয়েছে, তাই নতুন কোনো সংঘাত সহ্য করার মতো অবস্থায় তারা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

