ইরানি তেল বাণিজ্যে জড়িত ৪ ভারতীয় কোম্পানি ও ৩ জনের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ভারতের চারটি কোম্পানি এবং তিনজন ভারতীয় নাগরিকের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলার মূল্যের ইরানি তেল বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যার লক্ষ্য হলো তেহরানের বৈশ্বিক রাজস্ব প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করা। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামক উদ্যোগের আওতায় এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সাদাশিবা ওভারসিজ লিমিটেড ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি করেছে। এই চালানের কিছু অংশ এমন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিল যেগুলোকে আগেই ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এছাড়া পিপি সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রকৃতীস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড—এই দুই কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রায় আড়াই কোটি ডলার করে ইরানি পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির অভিযোগ আনা হয়েছে। চতুর্থ প্রতিষ্ঠান পোর্টইজ পার্টনার্স এলএলপি, যারা ভারতভিত্তিক কাস্টমস ব্রোকার হিসেবে কাজ করে, তাদের বিরুদ্ধে ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের একাধিক চালান ভারতে প্রবেশে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা তিন ভারতীয় নাগরিক হলেন পিপি সফটটেকের পরিচালক প্রশান্ত গার্গ এবং পোর্টইজ পার্টনার্সের সঙ্গে যুক্ত ইদ্রিস মিয়া আশারাফমিয়া শেখ ও হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গি।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানি সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হবে। ওয়াশিংটন সতর্ক করে বলেছে যে, ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক যোগাযোগ শাস্তির মুখে পড়তে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানকে আর্থিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে এই নীতি গ্রহণ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।