সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের ফাঁদ পেতে বা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শীতল আক্তার খুশি নামের এক তরুণীর বিরুদ্ধে। তার এই ‘হানি ট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদের শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিদেশি নাগরিকও। সম্প্রতি এক পাকিস্তানি যুবকের দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে এই তরুণীর প্রতারণার নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
রাজধানীর বড় মগবাজার এলাকার সজিবুর রহমানের মেয়ে খুশির বিরুদ্ধে সৌদি আরব প্রবাসী পাকিস্তানি তরুণ সালমান আজিজ একটি মামলা করেছেন। ২০২১ সালে বিগো লাইভ অ্যাপের মাধ্যমে তাদের পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সালমান আজিজের দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, এসি এবং আইফোনসহ বিভিন্ন দামি উপহার নিয়েছেন খুশি। ঢাকায় এসে তিনি খুশিকে বিয়ের আংটিও পরিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে খুশি একটি ফ্ল্যাট এবং ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর দাবি করলে সালমান প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং টাকা দেওয়া বন্ধ করে আদালতে মামলা করেন।
এই মামলার তদন্তে নেমে সিআইডি আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র যাচাই করে দেখতে পায়, বিভিন্ন সময়ে সালমান আজিজ সর্বমোট ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৯৪৩ টাকা খুশিকে পাঠিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় খুশি ছাড়াও তার বাবা সজিবুর রহমান, তেজগাঁও কুনিপাড়া এলাকার সাকিব ইসলাম এবং বড় মগবাজারের ওয়াকিল আহমেদ পাপ্পুকে আসামি করা হয়েছে। তবে খুশির দাবি, সালমান তাকে টাকা দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সেগুলো তিনি উপহার হিসেবে নিজে থেকেই দিয়েছেন, খুশি কখনো তা চাননি।
শুধু সালমান আজিজই নন, বাংলাদেশের এক যুবকের সঙ্গেও খুশির ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। ওই যুবকের অভিযোগ, খুশি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং বাধা দিলে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হতো। দেনমোহরের টাকা আদায়ের জন্যই খুশি এখন সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং তাকে ব্লক করে রেখেছেন। এই অভিযোগ অস্বীকার করে খুশি বলেন, দেনমোহরের টাকা তার লাগবে না, তবে তিনি ওই যুবকের থেকে পুরোপুরি আলাদা হতে চান।
এছাড়া আরও কয়েকজন তরুণের সঙ্গে খুশির ঘনিষ্ঠ ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে খুশি জানান, তার অনেক ছেলে বন্ধু ও সম্পর্ক ছিল, যা মানুষের জীবনে স্বাভাবিক। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার উল্লেখ করে বলছেন, অপরিচিতদের সঙ্গে দ্রুত ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মানুষের আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত।

