২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে বদলির নির্দেশ মন্ত্রীর

টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান সখীপুরে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি করার নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার বেলা দুইটার দিকে উপজেলার হলুদিয়াচালা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দা, বিএনপি নেতা-কর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তিনি টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. নাজমুল আলমকে মুঠোফোনে এই নির্দেশ দেন।

মুঠোফোনের লাউড স্পিকারে ডিএফওকে মন্ত্রী বলেন, বন বিভাগের বহেড়াতৈল রেঞ্জের আওতাধীন হলুদিয়াচালায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি টিনের ঘর ছিল। তাঁর অভিযোগ, রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী দালালদের মাধ্যমে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঘরটি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন। পরে ঘরটি কিছুটা বড় করায় সেটি ভেঙে দেওয়া হয়। মন্ত্রী ডিএফওকে বলেন, ‘সবার আগে আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই এমরানকে এখান থেকে ট্রান্সফার করবেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করবেন—এটা আপনার কাছে আমার অনুরোধ।’

এ সময় আহমেদ আযম খান আরও বলেন, ‘আমি যত দিন এমপি আছি, আমার এলাকার মানুষকে হয়রানি করতে দেব না।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, টাকা দিলে বন বিভাগ ঘর বা বিল্ডিং নির্মাণের সুযোগ দেয়, কিন্তু টাকা না দিলে সঙ্গে সঙ্গে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়।

৯ আগস্ট ভোরে বহেড়াতৈল ইউনিয়নের হলুদিয়াচালা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৈরি করা প্রায় ৬০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি টিনের ঘর ভেঙে দেয় বন বিভাগ। স্থানীয়দের দাবি, রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে তাঁরা ওই জমির মালিকানা পেয়েছেন। তবে বন বিভাগের দাবি, জায়গাটি সংরক্ষিত বন বিভাগের আওতাভুক্ত। আটিয়া বন-৮২ অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করে সখীপুরের বিভিন্ন এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বন বিভাগ ও স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সেই বিরোধের জেরেই ঘরটি ভাঙা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী মুঠোফোনে বলেন, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করেছেন। ঘর ভাঙার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব এবং তিনি কেবল সহযোগিতা করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। আমি যেখানেই যাব, বন রক্ষায় কাজ করব।’ ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগকে তিনি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত’ বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ডিএফও মো. নাজমুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।