বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের লেনদেনের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি জোরদার হওয়ার পর আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে এর দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডলারের বিনিময় মূল্য কমেছে ১ টাকা ৪ পয়সা।
তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলারের গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা। রোববার পর্যন্ত তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৭৮ পয়সায়। একই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এলসি খোলার ক্ষেত্রেও ডলারের গড় দাম কমেছে। ৬ আগস্ট এলসিতে ডলারের গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৯৭ পয়সা, যা রোববার কমে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সায়। অর্থাৎ এলসিতে ডলারের দাম গড়ে ৩২ পয়সা কমেছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংক ডলারের দাম নিয়ে কারসাজি করছিল এবং পরিকল্পিতভাবে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি জানার পর কয়েকটি ব্যাংকে বিশেষ তদন্ত চালায়। তদন্তে কারসাজির প্রমাণ পাওয়ায় ব্যাংকগুলো পর্যায়ক্রমে ডলারের দাম কমাতে শুরু করে। গত ৬ আগস্টের পর থেকে রোববার পর্যন্ত আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম ১ টাকা ৪ পয়সা হ্রাস পেয়েছে।
রোববার আন্তঃব্যাংকে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা ৫ পয়সা এবং সর্বনিম্ন দাম ছিল ১২২ টাকা ৬৩ পয়সা। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই সময়ে ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা কমেনি বরং বেড়েছে। চাহিদা বাড়ার বিপরীতে দাম কমার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গত ৯ আগস্ট ব্যাংকগুলোতে ডলার সোয়াপ (স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি ঋণ) হয়েছিল ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা গত সোমবার বেড়ে ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। এরপর মঙ্গলবার তা কমে ৫ কোটি ১৩ লাখ এবং বুধবার ৫ কোটি ডলারে নেমে আসে।
বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে আমদানির এলসি খোলার প্রবণতা এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের হার বেশি রয়েছে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স কেনার ক্ষেত্রেও ডলারের দাম কমেছে। আগস্টের শুরুর দিকে রেমিট্যান্সের ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায় উঠলেও এখন তা কমে ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সায় নেমে এসেছে। তবে কিছু দুর্বল ব্যাংকে ডলারের সংকট এখনো বিদ্যমান থাকায় তারা তুলনামূলক বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কিনছে।

