ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ও তার স্ত্রীর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ প্রদান করেন। একই সঙ্গে আদালত সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রারদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন ক্রোক করা এসব সম্পদ বিক্রি, হস্তান্তর বা বিনিময় না করা হয়।

এর আগে দুদক উপপরিচালক মশিউর রহমান আদালতে এই সম্পদ ক্রোকের আবেদন করেছিলেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, নজরুল ইসলাম গ্রাহকের সঞ্চয়ের অর্থ আত্মসাৎ, প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত দামে জমি কেনাসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার দাবি, বর্ণিত স্থাবর সম্পদ ক্রোক না করা হলে তা হস্তান্তর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরবর্তীতে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না। দুদকের বিধি ১৮ অনুযায়ী অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত এই আদেশ দেন।

ক্রোককৃত সম্পদের তালিকায় নজরুল ইসলামের উত্তরা, ভালুকা, কুয়াকাটা, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর, গুলশান, রূপগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের মোট ২০টি দলিলের সম্পদ রয়েছে। এগুলোর দাপ্তরিক ক্রয়মূল্য ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে গুলশানে ৮ কাঠা জমি ও বাড়ি, কুয়াকাটায় ৬.১৮ একর জমি এবং উত্তরায় ২১.২১ কাঠা জমি উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে, তাসলিমা ইসলামের নামে গুলশান, খিলক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বাড্ডা, সূত্রাপুর, টঙ্গীবাড়ী ও গাজীপুরে থাকা ২২টি দলিলের সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে, যার ক্রয়মূল্য ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এই দম্পতির নামে থাকা মোট সরকারি ক্রয়মূল্য ৫৭ কোটি ৬১ লাখ টাকারও বেশি, যার বর্তমান বাজারমূল্য আরও অনেক বেশি।

দুদক জানায়, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকা-১ কার্যালয়ে একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই দায়ের করা মামলাটিও অন্তর্ভুক্ত। গত বছরের ২৩ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। এছাড়া তার বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদের জন্য মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদকের ১০টি অভিযোগের মধ্যে ৬টির তদন্ত শেষে মামলা হয়েছে এবং ৪টি বর্তমানে তদন্তাধীন। এছাড়া গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফারইস্টের করা মামলায় ডিবি পুলিশ ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছে, যা গৃহীত হয়েছে।