সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের ফাঁকি রোধে ডিজিটাল নজরদারি চালুর নির্দেশ

সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মক্ষেত্রে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালুর কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এরই মধ্যে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপস্থিতির এই তথ্য সরাসরি বেতন, ছুটি এবং পদোন্নতির সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের নির্দেশনা রয়েছে। তবে কেবিন ফি পুনর্মূল্যায়ন বা যৌক্তিকীকরণের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে, যাতে কোনোভাবেই রোগীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয়।

হাসপাতালের কর্মদক্ষতা বাড়াতে প্রতি মাসে সেরা ৫ শতাংশ এবং দুর্বল কর্মদক্ষতার ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়া হবে এবং দুর্বল কর্মদক্ষতার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।