গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে তাৎক্ষণিক ঘরোয়া সমাধান

খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত গলায় মাছের কাঁটা ফোটেনি, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া বিরল। গলায় কাঁটা বিঁধলে যে অস্বস্তি ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে বাড়িতে থাকা সাধারণ কিছু উপাদানের সাহায্যেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

ছোট বা বড় মাছের কাঁটা সাধারণত গলার ভেতর, জিভের গোড়ায় বা গলবিল বা ফ্যারিংস-এ আটকে যেতে পারে। সাধারণত ০.৫ থেকে ৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত কাঁটা আটকে যাওয়ার ঘটনা বেশি দেখা যায়। রুই, পোনা, ভেটকি, ইলিশ, তেলাপিয়া, পুঁটি, টাকি ও গুলশা মাছের কাঁটা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এটি যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে, তবে ২১-৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়, কারণ তারা দ্রুত খাওয়া বা কাজে ব্যস্ততার সময় অসতর্ক থাকেন। এছাড়া শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, নকল দাঁত ব্যবহারকারী এবং সেরেব্রাল পালসি বা মাসকুলার ডিস্ট্রফিতে আক্রান্তরা বিশেষ ঝুঁকির তালিকায় থাকেন।

গলায় কাঁটা আটকে গেলে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি কাজে আসতে পারে। ১) সাদা ভাত গেলা ২-৩ বার ভাত গিলে দেখুন, এতে কাঁটা নেমে যেতে পারে। ২) গলায় কাঁটা বিঁধলে ভাত খেয়ে নামাতে চান? ভাতের ছোট ছোট বল বানিয়ে পানি দিয়ে গিলে ফেলাই সেরা উপায়। পাকা কলা খেতে খেতেও কাঁটা নেমে যেতে পারে, যা খুবই সহজ একটি পদ্ধতি। এছাড়া কুসুম গরম লবণ পানি দিয়ে গড়গড়া করলে গলার পেশি রিল্যাক্স হয়ে কাঁটা আলগা হতে পারে। একটু অলিভ অয়েল পান করলে গলার ভেতর পিচ্ছিলতা তৈরি হয়, যা কাঁটা সহজে নিচে নামাতে সাহায্য করে। ৪) এক টুকরো লেবু নিন, তাতে একটু লবণ মাখিয়ে চুষে চুষে লেবুর রস খেয়ে ফেলুন। ৫) পানির সাথে সামান্য ভিনেগার মিশিয়ে পান করলেও ঠিক লেবুর মতই কাজ হবে। ৭) গলায় কাঁটা নামানোর আধুনিকতম পদ্ধতি হচ্ছে কোকাকোলা। জিভের পেছনে কাঁটা থাকলে জোরে কাশি দিলেও তা বের হয়ে আসতে পারে।

গলায় কাঁটা বিঁধলে গলার ভেতরে আঙুল বা অন্য কিছু ঢোকানো যাবে না। বারবার গলার নড়াচড়া বা গিলতে যাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। বিড়ালের পা ধরা বা ঝাড়ফুঁকের মতো কুসংস্কার ও অপেশাদার চিকিৎসায় ঝুঁকি নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

যদি ঘরোয়া পদ্ধতিতে কাজ না হয় বা তীব্র ব্যথা, রক্তপাত, গলার ভেতর ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত লালা ঝরা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও খাবার বা পানি গিলতে অসুবিধা হয়, তবে বিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতাল বা নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। অনেক সময় কাঁটা নেমে যাওয়ার পরও অস্বস্তি থেকে যায়, সেক্ষেত্রে ব্যথার উৎস নির্ধারণ করে নিশ্চিত হতে হবে। দীর্ঘ সময় অবহেলা করলে ইনফেকশন বা বড় জটিলতা তৈরি হতে পারে।