কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৬০) নামের এক বাড়ির মালিককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পর তার মরদেহ ১৪ টুকরো করে পলিথিনে মুড়ে বাসার পেছনে ফেলে রাখা হয়। শনিবার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরের ‘পূর্বাশা আবাসিক এলাকার’ ভূঁইয়া হাউজে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত ফরিদা ইয়াসমিন ওই এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলামের স্ত্রী।
জানা যায়, গত প্রায় ৩০ বছর ধরে ফরিদা ইয়াসমিন স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। তার স্বামী চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন এবং দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। সম্প্রতি বাড়ির একটি ঘর লাইলী আক্তার নামের এক নারীকে ভাড়া দেয়া হয়েছিল। শনিবার সকালে ফরিদার স্বামী বারবার ফোনে কল দিয়ে স্ত্রীকে না পেয়ে তার ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তারকে বাড়িতে খোঁজ নিতে বলেন। মরিয়ম বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় বারান্দা ভেজা দেখে স্বজনদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বিকালের দিকে নিহতের ভাগনে মামুন বাসার পেছনে পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।
উত্তেজিত জনতা লাইলী আক্তারকে গণধোলাই দিয়ে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে দেবিদ্বার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফরিদার খণ্ডিত লাশের ১১টি প্যাকেট উদ্ধার করে এবং লাইলী আক্তারকে থানায় নিয়ে যায়। আটককৃত লাইলী আক্তার দেবিদ্বারের চাপানানগর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী।
নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে স্ত্রীকে ফোনে না পেয়ে মেয়ে ও নাতনিকে বাড়িতে পাঠিয়েছিলাম। তারা বারান্দা ভেজা দেখে সন্দেহ করে এবং ভাড়াটিয়া নারীর কথাবার্তা অসঙ্গতিপূর্ণ মনে হওয়ায় পুলিশকে জানানো হয়। স্ত্রীর শরীরে স্বর্ণালংকার ছিল; ধারণা করছি সেই লোভেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহের অন্যান্য অংশ পাওয়া গেলেও মাথা ও পায়ের অংশ এখনো পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে লাইলী আক্তার ছাড়াও তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমন নামের আরও তিন যুবক জড়িত ছিলেন। দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার হয়েছে, তবে মাথা ও পায়ের অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আটক লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

