দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব: ভারতীয় হাইকমিশনার

বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে আলোচনায় বসলে দুই দেশের বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। গতকাল সকালে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য খেলার জায়গা উদ্বোধন করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। দিল্লির কেন্দ্রীয় কেবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদাধারী এই কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ জানান, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে, তাতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়াটা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, এখানে কোনো নেতিবাচক বিষয় নেই, সবই ইতিবাচক।

দীনেশ ত্রিবেদীর এই মন্তব্য এমন এক সময় সামনে এলো, যখন ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার পথের কাঁটার নাম শেখ হাসিনা। গত ৫ই আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিবার্ষিকীর দিন নয়াদিল্লির একটি অনুষ্ঠানে অদৃশ্য থেকে কথা বলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের হারানো সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে ঢাকায় আসা ভারতীয় এই দূত গতকাল দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া আজ দুপুরে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সবাই সম্মান করি। তার বক্তৃতা আমি অনেকবার শুনেছি, তিনি একজন জনবান্ধব ব্যক্তি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও জনবান্ধব।

ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপড়েনের কেন্দ্রে থাকা শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্যই ভারত সরকার সমর্থন করে না এবং তারা বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখে। এমন প্রেক্ষাপটে ত্রিবেদীর মন্তব্যকে কূটনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার বৈঠকে দুই দেশের অস্বস্তিকর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, যা সরকারি পর্যায়েও বজায় রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের দুই মাসে তিনি যে উষ্ণতা ও ভালোবাসা পেয়েছেন, তাতে তিনি আবেগ আপ্লুত। ভিসা সেবার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে ত্রিবেদী বলেন, ভিসা আবেদনকারীদের ভোগান্তি কমাতে কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও চিকিৎসার জন্য ভারতগামী ব্যক্তিদের সুবিধা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগে চিকিৎসা ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা এক সপ্তাহ থাকলেও তা বাড়িয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে।

ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় দালালদের দৌরাত্ম্য ও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন উপায়ে এটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। নিজেরা ফরম পূরণে অক্ষম আবেদনকারীদের সহায়তার জন্য কেন্দ্রে একটি বিশেষ ডেস্কও রয়েছে। দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে তিনি গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ চেয়েছেন।