২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ৩৫০ ত্রাণকর্মী নিহত, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গাজা ও সুদান

২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৩৫০ জন ত্রাণকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা ও সুদানে। ত্রাণকর্মীদের ওপর এই উপর্যুপরি হামলার ঘটনাকে সম্পূর্ণ ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।

ওসিএইচএ-এর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শুধুমাত্র গাজাতেই ১৮৬ জন এবং সুদানে ৭১ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। এর মাধ্যমে টানা তৃতীয় বছরের মতো ত্রাণকর্মীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে গাজা। অবশ্য আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ত্রাণকর্মী নিহতের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী ৩৭৭ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছিলেন।

এই নৃশংসতা নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল টম ফ্লেচার। তিনি বলেন, বিগত মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে এক হাজারের বেশি ত্রাণকর্মীর প্রাণহানি ঘটেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফ্লেচার জোর দিয়ে বলেন, কেবল মৌখিক প্রতিবাদ জানিয়ে ত্রাণকর্মীদের এই ধারাবাহিক মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব নয়। তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্রকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে হবে এবং মাঠপর্যায়ে বেসামরিক নাগরিক ও ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে যারা এসব আইন লঙ্ঘন করছে, তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।

চলতি ২০২৬ সালের পরিস্থিতিও বেশ উদ্বেগজনক। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আরও ৮২ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৯৭ জন এবং অপহরণের শিকার হয়েছেন ৩৯ জন কর্মী।

যুদ্ধক্ষেত্রে সশস্ত্র ড্রোন ও চালকবিহীন বিমানের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওসিএইচএ। সংস্থাটির মতে, এই প্রযুক্তির সহজলভ্যতা আরও বেশি মানুষের হাতে প্রাণঘাতী ক্ষমতা তুলে দিচ্ছে এবং জনাকীর্ণ শহর ও নগর এলাকায় বিস্ফোরক হামলার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে সুদানে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশই ঘটেছে সশস্ত্র ড্রোন হামলার কারণে। এসব হামলায় সাধারণ বাজার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোও রেহাই পাচ্ছে না। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও ড্রোন হামলার কারণে হতাহতের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

টম ফ্লেচার ড্রোন ব্যবহারের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, সশস্ত্র ড্রোন মূলত পুরোনো বিপদেরই একটি নতুন ও আধুনিক রূপ। এটি বেসামরিক সাধারণ মানুষের জীবনকে সরাসরি এবং ইচ্ছাকৃত বা বেপরোয়া হামলার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।