উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় আগামীকাল শনিবার (১২ই সেপ্টেম্বর) থেকে সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। এই মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কিছু পণ্যের দাম সরাসরি বাড়ানো হবে, আবার কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ওজন কমিয়ে দাম সমন্বয় করা হবে।
সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন জানান, মূলত কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে ময়দার বস্তার দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ২০০ টাকা হয়েছে। এছাড়া তেলের ড্রামের দাম ২৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩৩ হাজার টাকা এবং চিনির দামও ৫ হাজার ৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি নাজুক; আগে ১২ হাজার টাকা বিল আসলেও এখন তা ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হচ্ছে। এছাড়া লাইনের গ্যাসের অভাবে চড়া দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জালাল উদ্দিন আরও বলেন, ২০২২ সালে করোনার পর সর্বশেষ বেকারি পণ্যের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বড় শিল্প উদ্যোক্তারা ৫ থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ পেলেও ছোট উদ্যোক্তারা নিজেদের সারা জীবনের সঞ্চয় ও জমি-জমা বিক্রি করে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ার সঙ্গে এই মূল্যবৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক কারখানা দিনের বড় একটি সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যাহত করছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, এক মাসের ব্যবধানে খোলা ও প্যাকেটজাত চিনির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং আটা-ময়দার দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় সাত হাজার ক্ষুদ্র বেকারি রয়েছে, যার মধ্যে সাত শতাধিক রাজধানীতে অবস্থিত। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘায়িত হলে এই খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

