দিনাজপুরের খানসামায় সরকারি নিয়ম অমান্য করে অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুত রাখার দায়ে মোজাহারুল ইসলাম নামে এক বিএডিসি সার ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তার গুদাম থেকে ৯২০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার পাকেরহাট এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স রনি ট্রেডার্স’ নামক গুদামে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, মোজাহারুল বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) একজন নিবন্ধিত ডিলার। তার গুদামে মজুত রাখা সারের পরিমাণ অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি—এমন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি বিভাগ এই যৌথ অভিযান চালায়। গুদাম তল্লাশি ও সার গণনার পর সেখানে ২৬০ বস্তা মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) এবং ৬৬০ বস্তা ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার পাওয়া যায়।
অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ার হোসেন এবং খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার। এ সময় উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা অয়ন ফারহান শামস ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তারসহ স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান শেষে ইউএনও কামরুজ্জামান সরকার জানান, কৃষকদের দোরগোড়ায় সঠিক সময়ে ও সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে বা কৃষকদের হয়রানি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সার মজুত ও বিক্রির নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট ডিলারদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও অনিয়ম করায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জব্দ করা এসব সার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে কৃষকদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।

