সুনামগঞ্জে অধিক মুনাফার প্রলোভন ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শত শত সাধারণ গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে বেসরকারি এনজিও ‘পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সঞ্চয় জমা দেওয়ার পর টাকা ফেরত চাইলে সংস্থাটির কর্মকর্তারা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন এবং একপর্যায়ে তাদের বিভিন্ন শাখা কার্যালয় বন্ধ করে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত চার বছর ধরে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় ডিপিএস, ফিক্সড ডিপোজিট ও দৈনিক সঞ্চয়ের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করছিল সংস্থাটি। জামালগঞ্জ উপজেলার মাঠকর্মী সীমা রানী সরকার জানিয়েছেন, গত চার বছরে তিনি প্রায় ৪০ লাখ টাকা সঞ্চয় সংগ্রহ করে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জেসমিন আক্তারের কাছে জমা দিয়েছেন। কিন্তু গত শুক্রবার অফিসে গিয়ে দেখেন সেটি তালাবদ্ধ এবং ব্যবস্থাপকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ। তিনি তার গ্রাহকদের টাকা উদ্ধারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
সদর উপজেলার জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা সিতিশ রায় জানান, তিনি ৫০ হাজার টাকা ফিক্সড ডিপোজিট ও ১০ হাজার ৩০০ টাকা দৈনিক সঞ্চয় হিসেবে জমা দিয়েছিলেন। একই গ্রামের প্রণয় দাশ জানান, তার ৩৫ হাজার টাকা সঞ্চয়ের বিপরীতে গত ২০ জুলাই ঋণ পাওয়ার কথা থাকলেও অফিস বন্ধ থাকায় তিনি তা পাননি। তিনি এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মধ্যনগর, জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলাতেও একই কায়দায় গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সুনামগঞ্জ শহরের ওয়েজখালী এলাকায় সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে অফিস সহকারী ছাড়া কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তবে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা, তাহিরপুর, ছাতক ও দিরাই উপজেলায় এখনো কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত এসব কার্যালয়ে অভিযান না চালালে আরও অনেক মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ হারাবেন।
এ বিষয়ে পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থার উপপরিচালক জামিরুল হক দাবি করেছেন, তাদের কার্যক্রম চালু আছে এবং কয়েকটি শাখার সমস্যা দ্রুত সমাধান করে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে। সদর থানার ওসি রতন শেখ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি, তবে অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্লী রানী মোদক জানিয়েছেন, তিনি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি অভিযোগ পেয়েছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে টাকা উদ্ধারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

