প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৫৮
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) পাইওনিয়ার বেইজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ৮০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের অভ্যন্তরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আগুনের ফলে প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সার্ভার ও আইটি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দাপ্তরিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পাইওনিয়ার বেইজ, ক্যান্টিন, কাস্টমস ভবন এবং বায়েকের মসজিদে বর্তমানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এছাড়া পাইওনিয়ার বেইজ, কাস্টমস বিল্ডিং, ১.৬ বিল্ডিং, ট্রেনিং সেন্টার ও মেডিকেল সেন্টারে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় পাইওনিয়ার বেইজ, কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনের ওয়াশরুম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সংকট তৈরি হয়েছে। মসজিদে পানির ব্যবস্থা থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় নামাজ আদায়ে সমস্যা হচ্ছে। ক্যান্টিনে দুই দিন রান্না বন্ধ থাকায় শ্রমিক ও কর্মচারীদের বাইরে খাবার খেতে হয়েছে, তবে বুধবার বিকেলে ক্যান্টিনে বিদ্যুৎ আসায় সেখানে খাবারের সংস্থান শুরু হয়েছে।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার আবুল হাশেম জানিয়েছেন, ৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি স্প্লিট-টাইপ এসির ইনডোর ইউনিটের বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে একটি তদন্ত কমিটি সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করছে।
প্রকল্পের সাইট অফিসের ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, কিছু নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেগুলোর ব্যাকআপ কপি সংরক্ষিত রয়েছে। সার্ভার স্টেশনে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হওয়ায় অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং তা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। এদিকে, ঘটনার পর প্রকল্পের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা; অতীতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শনের সময়ও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ড মূল স্থাপনার বাইরে একটি অস্থায়ী ভবনে সীমাবদ্ধ ছিল। এতে প্রকল্পের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। অগ্নিকাণ্ডে অস্থায়ী ভবনের দুটি কক্ষের আসবাবপত্র, নথিপত্র ও আইটি সরঞ্জাম আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঘটনার বিষয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

