সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি জোরদার করেছে সরকার। নতুন এই বেতন কাঠামোতে কর্মচারীদের আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মূল বেতন ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
চলমান আর্থিক সংকটের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। আইএমএফ-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎস নিশ্চিত না করে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করলে আর্থিক চাপ ও মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এসব উদ্বেগের মধ্যেও নবম পে-স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নতুন পে-স্কেলে ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে সব গ্রেডে গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও, প্রস্তাবিত কাঠামোতে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীরা বেশি সুবিধা পাবেন। নতুন খসড়া অনুযায়ী—৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল থাকবে, ৫ম গ্রেডের জন্য ৪ শতাংশ, ৩য় ও ৪র্থ গ্রেডের জন্য ৩.৫ শতাংশ, ২য় গ্রেডের জন্য ২.৭৫ শতাংশ এবং ১ম গ্রেডের জন্য ইনক্রিমেন্ট পৃথকভাবে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। শুরুতে তিন ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনা থাকলেও বর্তমানে দুই ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। আইনি ও কারিগরি জটিলতা এড়াতে খসড়া প্রজ্ঞাপনের আইনি যাচাই, বিধিমালা সংশোধন এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত হালনাগাদের কাজও চলমান রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে সরকার একটি বিস্তৃত জরিপ পরিচালনা করেছিল। এতে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩ প্রতিষ্ঠানের প্রধান অংশ নেন। জরিপের তথ্যমতে, মাত্র ৫.৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া ৫০.৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হারের সমন্বয় এবং ৩১.৫৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া ৭৯.৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরও বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন।
এখন পর্যন্ত সরকার নবম পে-স্কেলের মূল বেতনের চূড়ান্ত হার প্রকাশ করেনি এবং কোনো বেতন কাঠামো অনুমোদন বা গেজেট জারি করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই প্রতিটি গ্রেডের নতুন মূল বেতনের হার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

