প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়নের দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা আবেদনগুলো আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদান করেন। আদালত এই আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
একইসঙ্গে আদালত একটি রুল জারি করেছেন। প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়নের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রশাসনের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। এছাড়াও পাসপোর্ট সংক্রান্ত আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ সচিব, আইন সচিব এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মোট ১৪ জন বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতের অপর একটি নির্দেশনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আগামী ২১ দিনের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশন ও দূতাবাসগুলোকে চিঠি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই চিঠির মাধ্যমে প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট বা নবায়নের আবেদনগুলো যেন দ্রুত পাসপোর্ট অফিসে পাঠানো হয়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটির বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে এই রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছিল। শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জিসান হায়দার অংশ নেন। রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ই-পাসপোর্ট ও নবায়ন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আইনের আশ্রয় লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থি। এছাড়া এটি সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত ২১ অনুচ্ছেদেরও লঙ্ঘন।
আবেদনে আরও বলা হয়, পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে অনেক প্রবাসী তাদের ভিসা নবায়ন করতে পারছেন না, যার ফলে তারা সংশ্লিষ্ট দেশে অবৈধ অভিবাসীতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। অনেকে কারাবরণ করছেন বা বাধ্য হয়ে দেশে ফিরে আসছেন। ঢাকার ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অফিসের প্রিন্টিং প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও সিরিয়াল ব্যবস্থাপনায় অবহেলার কারণে প্রবাসীদের আইনি মর্যাদা, কর্মসংস্থান ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে, যা দেশের রেমিটেন্স প্রবাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স অর্থনীতির প্রাণশক্তি, অথচ পাসপোর্ট জটিলতায় তাদের চাকরি হারানোর মতো চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

