রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বেসরকারি হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী হজ ও ওমরাহ মেলা সাড়ম্বরে শেষ হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) রাতে অনুষ্ঠিত মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, বিগত সময়ে হজের বিমান ভাড়া নিয়ে যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার তা পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
বিমানমন্ত্রী জানান, এবার হজের বিমান ভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের ৫ মাসের মেয়াদে দুই হজে মোট ৩৬ হাজার ৮৩০ টাকা ভাড়া কমানো হলো। সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং বিমান ভাড়া আরও কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, হজ কোনো সাধারণ সফর নয়, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক নিরলস যাত্রা। তাই ওমরাহর চেয়ে মূল হজের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এবার হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। হজ নিয়ে যেন কোনো ধরনের প্রতারণা না ঘটে, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক করেন। এছাড়া হজ ফ্লাইটের প্রথম দিকে বেসরকারি এজেন্সি মালিকদের জন্য টিকিট বরাদ্দের বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী দেশে ফিরলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এবার পুরো হজ মৌসুমে সৌদি কোম্পানি খাবার সরবরাহ করবে। তবে সৌদিদের দেওয়া খাবার আমাদের দেশের হজযাত্রীরা খেতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাব সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার। তিনি বলেন, হজের বিমান ভাড়া প্রায় দুই লাখ টাকা হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও বিমানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে তা কমিয়ে এবার ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। তিনি হজের প্রথম ফেতরায় বেসরকারি এজেন্সি মালিকদের জন্য টিকিট বরাদ্দের দাবি জানান এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি নিবন্ধিত এজেন্সির মাধ্যমে হজে যাওয়ার জন্য হজযাত্রীদের আহ্বান জানান। হাব মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে হজযাত্রীদের বাঁচাতে এবং সচেতনতা তৈরিতে এই মেলার আয়োজন সফল হয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিমান ভাড়া প্রায় দুই লাখ টাকা নির্ধারণ করে যে লুটপাট করা হয়েছিল, তার হিসাব নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হজ ব্যবস্থাপনাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, গ্রামগঞ্জে ওমরাহকে ‘ছোট হজ’ বলে প্রচার করা হচ্ছে, যার ফলে ওমরাহতে প্রায় ৫ লাখ লোক যাচ্ছেন। ফরজ বাদ দিয়ে নফলের প্রতি কেন এই ঝোঁক, তা নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। তিনি জানান, এবারের মেলায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের স্টলেই ১৩১ জন নিবন্ধন করেছেন। এবার হজে সৌদি কর্তৃপক্ষ খাবারের দায়িত্ব নেওয়ায় খাবার বাবদ ৩৯ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এছাড়া এবার অতিরিক্ত বাড়িভাড়া ২ শতাংশ করার কারণেও কিছুটা খরচ বেড়েছে, যা গতবার ছিল ১ শতাংশ। লিড এজেন্সি নিয়ে যাতে সিন্ডিকেট না হয়, সেজন্য প্রতি বছর এটি পরিবর্তন করা হবে এবং অতীতের সুনির্দিষ্ট দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি ২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনা আরও ভালো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, বিমান ভাড়া না কমালে এবার হজের খরচ আরও অনেক বেড়ে যেত। হাবের সাবেক সভাপতি ইবরাহিম বাহার জানান, গত বছর ৫ লাখ ওমরাহযাত্রী গেলেও সরকারি রেকর্ডে মাত্র ২ লাখের তথ্য রয়েছে; বাকি ৩ লাখ লোক ওমরাহ এজেন্সির বাইরে যাওয়ায় মানবপাচারের আশঙ্কা রয়েছে, যা খতিয়ে দেখা দরকার। সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতি টিকিট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এজেন্সির হাতে দেওয়ার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মঞ্জুরুল হক, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়জার সোহেল আহমেদ, বায়রার সাবেক মহাসচিব কাজী মফিজুর রহমান এবং টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ। সমাপনী অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন হাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী।

