বাঁশখালীর বন্যাদুর্গতদের জন্য দ্রুত নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস ডিসির

আমার দেশ পত্রিকায় মঙ্গলবার ‘বাঁশখালীতে খোলা আকাশের নিচে বন্যায় গৃহহীন মানুষ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বৃহস্পতিবার সরেজমিনে বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের বর্তমান শোচনীয় অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

টানা ৭ থেকে ১০ দিন পানি জমে থাকায় এই এলাকার মাটির তৈরি বাড়িগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অধিকাংশ ঘর পানিতে মিশে গেছে। বর্তমানে অনেক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অর্ধভাঙা ঘরে বসবাস করছেন, যা যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। পরিস্থিতি দেখে জেলা প্রশাসক গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে বিস্তারিত মতামত সংগ্রহ করেন। তিনি জানতে চান পরিবারের সদস্য সংখ্যা কত, তারা কী ধরনের পুনর্বাসন চান এবং কোন ধরনের উপকরণ ও ডিজাইনে বাড়ি তৈরি করলে তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে। পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত করার লক্ষ্যে তিনি স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিদের সঙ্গে কথা বলে নতুন ঘর তৈরির সম্ভাব্য খরচ, নির্মাণ উপকরণের মান ও স্থায়িত্ব সম্পর্কেও অবগত হন। এছাড়া নতুন ঘর নির্মাণ করা হলে দুর্গতরা সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবেন কি না—সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত হয়েছেন।

এ সময় পুনর্বাসনের সার্বিক কৌশল নিয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুহুল আমিন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর আশ্বাস দিয়ে বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে খুব দ্রুত প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নিরাপদ নতুন ঘর নির্মাণ নিশ্চিত করা হবে।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈন উদ্দিন হাসান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরীফ উদ্দিন।

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২: ৪৫আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২: ৪৮