ইলিশের ভরা মৌসুমেও শূন্য বরিশালের পোর্ট রোডের আড়ত

ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও বরিশালের প্রধান মৎস্য মোকাম পোর্ট রোডের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাধারণত এই সময়ে প্রতিদিন হাজার মণেরও বেশি ইলিশের আমদানি হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান চিত্রটি হতাশাজনক। আড়ত সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ১০০ মণের বেশি ইলিশ আমদানি হচ্ছে না এই মোকামে। রুপালি ইলিশের দেখা না মেলায় আড়তের শ্রমিক ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পোর্ট রোডের ইজারাদারদের খামখেয়ালি এবং অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারণেই জেলে ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা এই মোকাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। জেলেরা নদী ও সাগরে ধরা পড়া ইলিশ বরিশালের আড়তে না এনে মোহনা বা সুবিধাজনক স্থান থেকেই সরাসরি বিক্রির পথ বেছে নিচ্ছেন। ফলে মাছ চলে যাচ্ছে চাঁদপুর বা যশোরের মতো বিভিন্ন গন্তব্যে।

মৎস্য আড়তদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের আমলে মণপ্রতি ১০০ টাকা টোল নেওয়া হতো, যা জেলেদের জন্য সহনীয় ছিল। কিন্তু বর্তমানে সিটি করপোরেশন ও বিআইডব্লিউটিএর কাছ থেকে ইজারা নেওয়া মো. কামাল হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. সোবাহান টোলের হার অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে জেলেদের কাছ থেকে মণপ্রতি ৩০০ টাকা এবং পাইকারি ক্রেতাদের কাছ থেকে ৮০ টাকা টোল নেওয়া হচ্ছে। এই অতিরিক্ত টোলের প্রতিবাদ করলে স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল সিকদারসহ কয়েকজনকে মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আড়তদার নাসির উদ্দিন জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে কিছু ইলিশের আমদানি বাড়লেও তা খুবই সামান্য। শুক্রবারের বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, এক কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২,৮৫০ টাকা, এক কেজির ইলিশ ২,৬৫০ টাকা, ৮০০-৯০০ গ্রামের এলসি ২,৩০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের ইলিশ ২,০৫০ টাকা, ৪০০ গ্রামের ইলিশ ১,৫০০ টাকা, ৩০০ গ্রামের ইলিশ ১,২৫০ টাকা এবং জাটকা ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে স্থানীয় জেলে কামরুল ইসলাম ও মামুন সিকদাররা বলছেন, নদীতে মাছের আকাল এবং ইজারাদারদের অতিরিক্ত টোলের চাপে তারা বরিশালের মোকামে আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

ইজারাদার ও মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ঘাট পরিচালনার লোকসান কমানোর জন্য আড়তদারদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই টোল ২৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৮০ টাকা করা হয়েছে। কাউকে মারধর করার অভিযোগও তিনি নাকচ করে দেন।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাদিউজ্জামান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানান, চলতি মৌসুমে সাগরের মোহনায় মাছের প্রাপ্যতা কিছুটা কম। এছাড়া নদীর মোহনায় জেগে ওঠা ডুবোচরের কারণে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে প্রবেশে বাধা পাচ্ছে। একইসঙ্গে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার মাছের উৎপাদন হ্রাসে প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।