চিতলমারীতে শুকিয়ে যাচ্ছে বলেশ্বর নদী, চরম দুর্ভোগে হাজারো কৃষক

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা বলেশ্বর নদী এখন মৃতপ্রায়। বছরের পর বছর ধরে কোনো খনন উদ্যোগ না নেওয়ায় নদীর বুকজুড়ে এখন চর ও কচুরিপানার স্তূপ জমেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নদীপাড়ের হাজার হাজার কৃষক। সেচ সংকট ও পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা এখন নদীটি দ্রুত খননের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

বাগেরহাটের চিতলমারী এবং ওপারে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সীমানা নির্ধারণকারী এই বলেশ্বর নদীর দুই পাড়ে ব্যাপকভাবে ধান, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা হয়। এই অঞ্চলের পরিবারগুলো মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল এবং সারাবছরই তারা নানা ধরনের চাষাবাদে যুক্ত থাকেন। এলাকার প্রায় ১০ থেকে ১২টি গ্রামের কয়েক হাজার চাষির কৃষিকাজের একমাত্র ভরসা এই নদী। কিন্তু দীর্ঘ বছর ধরে নদীটি খনন না করায় শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি থাকে না, যার ফলে সেচ কাজে কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে কচুরিপানার স্তূপ জমে থাকায় নৌ-চলাচল ও কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

নৌপথ বন্ধ থাকায় উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করতে চাষিদের এখন অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এছাড়া, এই নদীতে মাছ শিকার করে যেসব পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত, তাদের জীবনযাত্রাও এখন সংকটের মুখে পড়েছে। স্থানীয় চাষি মুকুন্দ বাওয়ালী, আনন্দ বালা ও অনিমেশ বাগচী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যুগের পর যুগ ধরে তারা শুধু বলেশ্বর নদী খননের আশ্বাসই শুনে আসছেন, কিন্তু কোনো সরকারই এটি খননে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়নি। নদীটি খনন করা হলে এলাকার কৃষি ও নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটত বলে তারা উল্লেখ করেন।

চিতলমারী উপজেলা কৃষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক পঙ্কজ রায় জানান, অতীতে এই বলেশ্বর নদী দিয়ে নিয়মিত লঞ্চ ও স্টিমার চলাচল করত। দেশের বিভিন্ন স্থানসহ এমনকি বিদেশের সঙ্গেও এই নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল ছিল। সেই বেগবান নদীটির এখন করুণ দশা। নদীতে চর পড়ে যাওয়ায় এবং কচুরিপানা জমে থাকায় ঠিকমতো জোয়ার-ভাটাও খেলে না। নদী থেকে মাছ ধরে শত শত জেলে পরিবার এক সময় জীবিকা নির্বাহ করত, যারা এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে নদী পাড়ের চাষিদের এখন মরণদশা তৈরি হয়েছে।

এই বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ জানান, কৃষি কাজের স্বার্থে বলেশ্বর নদীটি খনন করা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় চাষিরা পুরোপুরি এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। সেচ মৌসুমে নদীতে পানি না থাকা এবং বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্যও নদীটি এখন সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বাগেরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল এ প্রসঙ্গে জানান, জেলায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বলেশ্বর নদী খননের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন। এছাড়া, নদীর কচুরিপানা যাতে দ্রুত পরিষ্কার করা যায়, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এখানকার পরিবারগুলো কৃষি নির্ভরশীল হওয়ায় সারা বছর কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তারা। এলাকার প্রায় ১০-১২টি গ্রামের কয়েক হাজার চাষি এই নদীর ওপর ভরসা করে চাষাবাদ করেন। ফলে কৃষিকাজের জন্য নদীই তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু দীর্ঘবছর ধরে বলেশ্বরের বুকে চর পড়ে আছে। এটি খননের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে শুকনো মৌসুমে নদীতে পানি না থ