কিশোরগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সংস্কার নিয়ে কথা বলা ব্যক্তিদের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিগত ১৭ বছর তারা কোথায় ছিলেন যখন বিএনপি ও তার মিত্ররা রাজপথে আন্দোলন ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ ধানের শীষ তথা জাতীয়তাবাদী দলকে সমর্থন দিয়ে সরকার গঠনে সহযোগিতা করেছিল। যেহেতু এটি জনগণের সরকার, তাই বিএনপি জনগণের কল্যাণেই কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা চিন্তা করে দুই মাস আগে ঘোষিত বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর ট্যাক্স কমানো হয়েছে, যাতে কেউ কৃত্রিমভাবে এগুলোর দাম বাড়াতে না পারে। অতীতে বাজেট ঘোষণার পরপরই যেভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ত, বর্তমান সরকারের সতর্ক পদক্ষেপের কারণে এবার তা হয়নি।
তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৫৫৩টি উপজেলার সব ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এর ফলে সাধারণ চিকিৎসার জন্য গ্রামবাসীদের আর কষ্ট করে জেলা হাসপাতালে ছুটতে হবে না। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নেও সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিরোধীদের ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে রটনাকারী ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ১৯৭১, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্দোলনে এদের রাজপথে দেখা যায়নি। অথচ আজ তারা বড় বড় কথা বলছেন এবং 'সংস্কার' নিয়ে শোরগোল তুলছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি প্রথম দেশের মানুষের সামনে সংস্কারের রূপরেখা প্রস্তাব করেছিল। তাই কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় কান না দিয়ে দেশকে স্থিতিশীল রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানী দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, মো. মাজহারুল ইসলাম ও জালাল উদ্দীন। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে ইঙ্গিত করে বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে এদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে এরা অতীতে কী করেছে? সেই অতীত বিবেচনা করে তাদেরকে আমাদের চোখে চোখে রাখতে হবে। সেই অতীত বিবেচনা করেই তারা ভবিষ্যৎে কী করতে চায় সেই দিকে নজর রাখতে হবে। আমরা দেখেছি ৭১ তাদের ভূ
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন প্রমুখ।

