রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা অস্ত্র আইনের একটি মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে গেছে। বুধবার ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪–এর বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ২৩ আগস্ট শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আনিসুল হকের আইনজীবী আসিফুর রহমান।
আইনজীবী আসিফুর রহমান জানান, গত ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে আনিসুল হকের বাসা থেকে লাইসেন্স করা অস্ত্রটি লুট হয়ে যায়। ফলে আদালতের আগের নির্দেশনা অনুযায়ী সেটি সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বুধবার বেলা দুইটার দিকে কড়া নিরাপত্তায় ঢাকা মহানগর হাজতখানা থেকে আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁর পক্ষে আইনজীবী মো. সুমন হোসাইন সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি, যার ফলে শুনানির প্রস্তুতির জন্য সময়ের প্রয়োজন ছিল। আদালত শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আনিসুল হকের নামে বনানী থানায় একটি পিস্তলের লাইসেন্স ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য দেওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে এবং ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আনিসুল হক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অস্ত্রটি জমা দেননি বা থানাকে অবহিত করেননি। এমনকি তাঁর ঠিকানায় খোঁজ নিয়েও অস্ত্র জমা দেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনায় বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জানে আলম দুলাল বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৯ আগস্ট একই থানার এসআই মো. ইয়াদুল হক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আনিসুল হককে সদরঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন।

