তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমানের জামিন ও কারামুক্তি

কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার একমাত্র আসামি, অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ঘটনার দশ বছর পর গ্রেফতার হওয়া ৫২ বছর বয়সী এই আসামিকে হাইকোর্ট ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেছেন।

গত রোববার বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে হাফিজুর রহমানকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন আদালত। জামিন আদেশের কপি অনুযায়ী, ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাব্বির হোসেন, মিজানুর রহমান, রেজাউল করিম ও মীর মনিরুজ্জামান। আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন ভূঁইয়া।

রোববার জামিনের আদেশ হলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার পর, যখন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে হাফিজুর রহমান কারামুক্ত হন। এই জামিনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানম জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আটজন আইন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন এবং মামলার নথির দায়িত্ব কার কাছে ছিল তা তার জানা নেই। তবে তিনি যোগ করেন, উচ্চতর আদালতে আপিলের পর জামিন স্থগিত হলে আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করা সম্ভব। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাব্বির হোসেন জানান, তিনি বিষয়টি আজ জেনেছেন এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে জামিন স্থগিতের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে পিবিআই হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করে। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে হাফিজুর রহমানের গ্রেফতারের পর মামলাটি নতুন করে আলোচনায় আসে।

গত রোববার (২ আগস্ট) আসামিকে জামিন দিলেও মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার পর কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার কারামুক্তির পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।