ইয়েমেনে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধের সর্বোচ্চ ঝুঁকি: জাতিসংঘ

২০২২ সালে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেন বর্তমানে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে রয়েছে। দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সামরিক তৎপরতা শুরুর প্রেক্ষাপটে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে হান্স গ্রুন্ডবার্গ জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এসব সংঘর্ষ ও হামলায় সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি বেসামরিক লোকজনও হতাহত হয়েছেন। ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা মারিব, হাজরামাউত এবং আল-মাখা বা মোচাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে, যা দেশটির ভঙ্গুর পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।

ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার কয়েকটি গভর্নরেটে হুথি বাহিনীকে লক্ষ্য করে কামান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই দিনে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) প্রধান হুথিদের প্রতিটি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর ও ব্যাপক জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে দ্রুত উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের দূত একটি শক্তিশালী ও টেকসই যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন।

গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেছেন, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর হুথিদের নতুন করে হামলা ইয়েমেনকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের মাধ্যমে হুথিরা ইয়েমেনের বর্তমান সংঘাতের সূচনা করেছিল। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়। ২০২২ সালে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি রক্তক্ষয়ী সংঘাত কিছুটা কমিয়ে আনলেও স্থায়ী শান্তির পথ এখনো তৈরি হয়নি। গ্রুন্ডবার্গের মতে, ২০২৩ সালে বৃহত্তর অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার ফলে ইয়েমেনের শান্তি চুক্তির দিকে যে অগ্রগতি হচ্ছিল, তা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে এবং নতুন করে সামরিক তৎপরতা এই পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।