মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে স্কুলে শিক্ষার্থীদের টিকা নেওয়ার বাধ্যবাধকতার নীতিগুলো পুনরায় পর্যালোচনার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এই আদেশের আওতায় তিনি হাম, মাম্পস ও রুবেলার সমন্বিত টিকা (এমএমআর) তিনটি আলাদা আলাদা টিকা হিসেবে দেওয়ার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের একাংশ এই উদ্যোগকে বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি এমন সময়ে এল যখন যুক্তরাষ্ট্রে গত ৩৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রকোপ চলছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র, যিনি নিজেও টিকাবিরোধী একটি অলাভজনক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এবং টিকার সঙ্গে অটিজমের সম্পর্ক থাকার ভুল ধারণায় বিশ্বাসী, এই কড়াকড়ি আরোপকে তার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন। যদিও বহু বছরের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে এমএমআর টিকা নিরাপদ এবং অটিজম সৃষ্টির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
আইনি ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে ট্রাম্পের এই আদেশকে সরাসরি বাধ্যবাধকতা হিসেবে দেখার সুযোগ কম। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে ভর্তির জন্য টিকা দেওয়ার নিয়ম নির্ধারণের ক্ষমতা মূলত অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে। আদেশে মূলত অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলগুলোকে তাদের টিকাদান সংক্রান্ত সুপারিশগুলো পর্যালোচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগকে একটি টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যারা বেসরকারি খাত ও অন্যান্য দেশের সহায়তায় সমন্বিত এমএমআর টিকার পরিবর্তে আলাদা টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেবে।
নিউইয়র্ক নগরের স্বাস্থ্য কমিশনার অ্যালিস্টার মার্টিন এই আদেশকে রাজনীতি ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু রেসিন সতর্ক করেছেন যে, এমএমআর টিকার উপাদানগুলো আলাদা করতে এক দশকেরও বেশি সময় লাগতে পারে। এদিকে, সিনেটর বিল ক্যাসিডি মন্তব্য করেছেন যে, প্রেসিডেন্টের এই উদ্যোগ টিকার প্রতি মানুষের অনীহা বাড়িয়ে দেবে এবং শিশুদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। চলতি বছরের শুরুতে একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের টিকা নীতি পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে আইনসম্মত নয় বলে আটকে দিয়েছিল, যা বর্তমানে এখনো স্থগিত রয়েছে।

