জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনের কৌশল ও নির্দেশনা নিয়ে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ফোনালাপের প্রতিলিপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের মধ্যে হওয়া এসব ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম এই অডিওগুলো আদালতে তুলে ধরেন।
আইটি ফরেনসিক ও প্রসিকিউশন থেকে প্রাপ্ত এসব নথিতে আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যবহারের বিভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। এর মধ্যে আকাশপথে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নজরদারি, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঠে নামানো এবং বিরোধী দলীয় নেতাদের ঢালাও গ্রেফতারের নির্দেশনার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চাপ সামলাতে বিদেশি কূটনীতিকদের কীভাবে ব্রিফ করতে হবে, তা নিয়েও সাবেক সরকারের শীর্ষ নেতাদের বিস্তারিত আলোচনা শোনা গেছে।
ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা অডিওর মধ্যে ১৯ ও ২১ জুলাইয়ের ফোনালাপ রয়েছে। ১৯ জুলাইয়ের এক কথোপকথনে ওবায়দুল কাদের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে জানান যে, ডিএমপি কমিশনার কোনো পক্ষকেই সভা-সমাবেশ করতে দিতে রাজি নন। জবাবে শেখ হাসিনা পাল্টা প্রশ্ন করেন, তিনি কখন এমন নির্দেশ দিয়েছেন। আলোচনার এক পর্যায়ে ওবায়দুল কাদের যখন জানান যে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হচ্ছে, তখন শেখ হাসিনা কঠোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, আমাদের নেতা-কর্মীদের মাঠে নামাতে হবে। কাদের গায়েবানা জানাজা পড়ার প্রস্তাব দিলে তাতেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী সম্মতি প্রদান করেন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় জানানো হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পাল্টা আগুন দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ এবং সহিংসতার দায় আন্দোলনকারীদের ওপর চাপানোর বিষয়েও অডিও প্রমাণাদি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ শেখ হাসিনার সঙ্গে ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদের অডিও ফোনালাপ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে অডিওটি উপস্থাপন করে যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে শেখ হাসিনার এসব ফোনালাপ হয়।

