ইরানের হুঁশিয়ারি: যুদ্ধে জড়ালে দক্ষিণ কোরিয়ার স্থাপনা থাকবে না নিরাপদ

দক্ষিণ কোরিয়া যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন কোনো যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করে, তবে তেহরান দেশটিকে শত্রু হিসেবে গণ্য করবে। লেবাননভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল মায়াদিনের ‘দ্য গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডঅফ’ অনুষ্ঠানে ইরানি শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ মারানদি সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টায় দক্ষিণ কোরিয়া যোগ দিলে ওই অঞ্চলে দেশটির সব সম্পদ ও স্থাপনা ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে পড়বে।

মারানদি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরান শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, বরং সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন অর্থনৈতিক স্থাপনাকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম। তিনি বলেন, ইরানের সামনে দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরান তাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। দক্ষিণ কোরিয়া নিজের জ্বালানি চাহিদার জন্য এই প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। গত বছর দেশটির আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬১ শতাংশ এবং ন্যাফথার ৫৪ শতাংশ এই পথ দিয়েই এসেছে। সিউল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে সেখানে নৌবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ, যুদ্ধবহির্ভূত ভূমিকা কিংবা অনুসন্ধান অভিযান—এমন বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।

দেশটির সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সিউল পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। বিবেচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে পি-৮ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান, রসদ সরবরাহের জাহাজ এবং নৌবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল পাঠানোর বিষয়টি রয়েছে। তবে যেকোনো সামরিক মোতায়েনের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, মন্ত্রিসভা ও জাতীয় পরিষদের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

ইরানি শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ মারানদি দক্ষিণ কোরিয়ার এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে ‘বোকামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার পাঠানো এক-দুটি জাহাজ যুদ্ধে কোনো বড় পরিবর্তন আনতে পারবে না। পাশাপাশি, ওয়াশিংটনের চাপে ২০১৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়া সোমালিয়া থেকে তাদের জলদস্যুবিরোধী নৌ ইউনিটের দায়িত্ব হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এ ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে হলে সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। ইরান যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে সিউলের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন, যা দুই দেশের জোটের টানাপোড়েনকে সামনে এনেছে।