তারেক রহমানের দিল্লি সফর: কোনো অগ্রগতি হলে জানাবে ভারত

আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরের প্রস্তুতির বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেয়নি। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দেওয়ার জন্যও তাকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই আমন্ত্রণপত্রগুলো পাঠানো হয়েছে এবং এক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি হলে তিনি অবশ্যই তা জানাবেন।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বিমসটেক সম্মেলনের আগে আগামী সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফরের প্রস্তুতি চলছে। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ২২-২৩ অগাস্টের কথা শোনা যাচ্ছে, যা ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক এক সপ্তাহ পরের সময়। যদিও সরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি। কর্মকর্তারাও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই সম্ভাব্য সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর, যা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানা গেছে, এই দুই দিনের সফরকে দ্বিপাক্ষিক সফর হিসেবেই সাজানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই নরেন্দ্র মোদীর সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এছাড়া ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ থাকলেও, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু বলেনি। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপাক্ষিক সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকটিও এই সফরের প্রস্তুতিতে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে রণধীর জয়সওয়াল জানান, বিদ্যমান ব্যবস্থাপনার আওতায় ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত আছে। বাড়তি সরবরাহের বিষয়টি ভারতের প্রয়োজন ও শোধনাগারের সক্ষমতা বিবেচনায় পর্যালোচনা করা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে আগামী ২৭ বা ২৮ অগাস্ট যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।