এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমেই নিয়োগের দাবি শিক্ষক নেতাদের

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সম্প্রতি যে বিভ্রান্তি ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে জরুরি সভা করেছে ন্যাশনালিস্ট ফোরাম ফর টিচার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ (এনএফটিই)। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক স্পষ্টীকরণ ও দায়িত্বশীল বক্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর এই সময়োপযোগী বক্তব্যের মাধ্যমে শিক্ষা খাতের অংশীজনদের দীর্ঘদিনের অস্বস্তি দূর হয়েছে।

শিক্ষক নেতৃবৃন্দ সভায় নিশ্চিত করেন যে, শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নিং বডি বা কোনো পকেট নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ দেওয়া হবে না। বরং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এই নীতিগত আশ্বাস শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সহজ করেছে বলে তারা মনে করছেন।

তবে সভায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং ২২ এপ্রিল এর ফলাফল প্রকাশিত হয়। কিন্তু তিন মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এনটিআরসিএ এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করতে পারেনি। এই অনিশ্চয়তায় হাজার হাজার যোগ্য শিক্ষক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, মৌখিক পরীক্ষা ঝুলে থাকার সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি কলেজের শিক্ষকদের ‘প্রেষণে’ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তারা শিক্ষামন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই প্রেষণে পদায়ন অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান। তাদের মতে, এটি যোগ্য বেসরকারি শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করছে।

সভায় উপাধ্যক্ষ শেখ ফরিদ হোসেন, অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান, অধ্যাপক গোলাম রসুল সানি, অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম মাসুদ, অধ্যাপক মো. আলমগীর হোসেন, অধ্যাপক কে এম নাহিদ হাসান, অধ্যাপিকা ফারহানা হক, অধ্যাপিকা ইপফাত আরা, সিনিয়র শিক্ষক তাসলিমা বেগম এবং মো. জয়নাল আবেদীন বক্তব্য রাখেন।