বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গত জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ড. মো. মনজুর হোসেন উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে শোকজ করা ৪২ জন শিক্ষার্থীর জবাব পর্যালোচনা করে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র অনুযায়ী, গত ২৩ ও ২৪ জুলাই ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যাতে অন্তত ১৩ শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর ১ আগস্ট রাতে মেসেঞ্জার গ্রুপে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ২ আগস্ট রাতে চারটি হলের শিক্ষার্থীরা ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরবর্তীতে ৯ আগস্ট সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৪২ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ড. মো. মনজুর হোসেন জানান, প্রতিবেদনে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, জড়িতদের নাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম জানান, শোকজ করা শিক্ষার্থীরা তাদের জবাব জমা দিয়েছেন এবং বর্তমানে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ এবং পারস্পরিক অভিযোগের ভিত্তিতে শোকজ করা হয়েছিল, এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জবাব মিলিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদেরও বিষয়টি জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার কথা জানিয়ে বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণ, একাডেমিক শাস্তি কিংবা আবাসিক হলে থাকার অধিকারসংক্রান্ত বিধিসম্মত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

