ডলারের নতুন দর নির্ধারণ করলো মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন

দেশের খোলা বাজারে ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন দর নির্ধারণ করেছে মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমসিএবি)। সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা নতুন বিনিময় হার অনুযায়ী, এখন থেকে মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় ক্রয় এবং ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করতে হবে।

সোমবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন দর ঘোষণা করেন এমসিএবির সভাপতি এম এস জামান। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দে-সহ কেন্দ্রীয় নেতারা এবং বিভিন্ন মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। এম এস জামান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকেই এই বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশের সকল মানি চেঞ্জারকে এ বিষয়ে অবহিত করা হচ্ছে।

বাজারের অস্থিরতা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সভাপতি বলেন, ডলারের বাজারে অনৈতিক কারসাজির দায় মানি চেঞ্জারদের নয়, বরং ব্যাংকগুলোর। তিনি দাবি করেন, মানি চেঞ্জারদের ব্যবসার পরিধি অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় তাদের পক্ষে বাজার ম্যানিপুলেট করা সম্ভব নয়। তার ভাষ্যমতে, করোনা-পরবর্তী সময়ে ব্যাংকগুলো ডলার বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে, অথচ দায় চাপানো হয় মানি চেঞ্জারদের ওপর।

এম এস জামান আরও বলেন, মানি চেঞ্জাররা কেবল নগদ বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করে এবং সরাসরি রেমিট্যান্স আনার কোনো সুযোগ তাদের নেই। বিদেশফেরত যাত্রী ও প্রবাসীদের পাঠানো নগদ অর্থই তাদের ব্যবসার মূল উৎস, যা পরোক্ষভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দাম নির্ধারণ করলেও মানি চেঞ্জারদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা থাকে না, যা একটি বৈষম্য।

বৈধ ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন মানি চেঞ্জারদের একটি তালিকা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান। বাজার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও এমসিএবি সভাপতি আশ্বস্ত করেন।