সিলেট নগরের রায়নগর এলাকার একটি বাসায় দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গত ১২ আগস্ট বুধবার সকালে মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত আব্দুস সাত্তারের গলা ও ঘাড়ে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের ডান হাতের চারটি আঙুল কাটা ছিল এবং তার শরীরেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গৃহকর্মী তাহমিনার শরীরে ১৭ থেকে ১৮টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ ঘটনায় রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির মৃত নূর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির জানান, নিহত দম্পতির ছেলে দেশে ফেরার পর শুক্রবার মামলার এজাহার দেওয়া হতে পারে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া জানিয়েছেন, তিনি ওই বাসায় রং করার কাজ করতেন এবং সেই সূত্রে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। বাবুলের দাবি, তাহমিনার কোনো আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর সুরাইয়া বেগম তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করা হয়। পরবর্তীতে আব্দুস সাত্তার বাধা দিতে এলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে রায়নগরের একটি খালি জায়গা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছোরা উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া ছোরাটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ঘটনাস্থলের বেসিন ও হাত ধোয়ার স্থানে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। এছাড়া উদ্ধার করা ছোরার ধাতব অংশে শুকনো রক্তের দাগ এবং একটি ব্যাগেও রক্তের চিহ্ন রয়েছে। এসব আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে। ঘটনাস্থলের দরজার নিচের ছোট ছিটকানি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং বাবুলের পালানোর পথ হিসেবে ব্যবহৃত বারান্দার রেলিংয়ে হাত ও পায়ের ছাপ এবং নিচে রক্তের চিহ্ন শনাক্ত করা হয়েছে।

