তিস্তা নদীর পানি বাড়লে বন্যা আর কমলে নদীভাঙন—এই দ্বিমুখী দুর্যোগে বছরের পর বছর ধরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের হাজারো মানুষ। বুধবার (৫ আগস্ট) তিস্তার পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম হরিণচড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল বাকি (৭০) জানান, বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পানি বেড়ে তাদের বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছিল। পরিবারের সদস্য ও গবাদিপশু নিয়ে তারা বিকেলের দিকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এছাড়া তাদের রোপা আমনের ক্ষেতও তলিয়ে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পানি না নামলে ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত দেড় মাস ধরে পানি বারবার বাড়া-কমার কারণে একদিকে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৫২ দশমিক ১০ মিটার রেকর্ড করা হয়, যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে। সকাল ৯টায় পানি আরও ২ সেন্টিমিটার কমেছে। এর আগের দিন বুধবার সকালে একই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, বর্তমানে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। উজানে ভারতের পাহাড়ি ঢল না এলে পানি বাড়ার সম্ভাবনা কম। তিনি আরও বলেন, গত দেড় মাস ধরে তিস্তায় পানি ওঠানামা করছে। সাধারণত এখানে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় এবং পানি বৃদ্ধির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা নেমে যায়।
তবে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের দাবি, শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, স্থায়ী নদীশাসন ও ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তাদের দুর্ভোগ কোনোদিনই শেষ হবে না। তাদের কথায়, “তিস্তার পানি বাড়লেও বিপদ, কমলেও বিপদ।”

