ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভার তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে শুধুমাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে ১০০ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। এর বাইরেও বিভিন্ন উপায়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে, যা জেলাজুড়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে ১৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১২ জন, মার্চে ১৯ জন, এপ্রিলে ২১ জন, মে মাসে ১৫ জন এবং জুন মাসে ২০ জন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। একই সময়ে অপমৃত্যুর তালিকায় আরও ৮৫ জনের নাম যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৬ জন, মার্চে ১৯ জন, এপ্রিলে ১১ জন, মে মাসে ২০ জন এবং জুন মাসে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। জুলাই মাসেও ২৩ জন আত্মহত্যা করেছেন এবং চলতি মাসের শুরুতেও বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।
সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনায় পারিবারিক কলহ ও শারীরিক অসুস্থতাকে আত্মহত্যার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। সদর উপজেলার জসিম উদ্দিন (৭০) নামে এক বৃদ্ধ পুত্রবধূর সঙ্গে অভিমান করে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি একটি সুইসাইড নোটে নিজের অসহায়ত্বের কথা লিখে যান। এছাড়া নবীনগরের মারুফা বেগম (২৭) নামে এক গৃহবধূ পারিবারিক কলহের জেরে গলায় ফাঁস দিয়ে প্রাণ দিয়েছেন। নাসিরনগরে নোয়াব মোল্লা (৯০) নামে এক বৃদ্ধ দীর্ঘদিনের ক্যান্সার ও জন্ডিস রোগে ভুগে অসহ্য যন্ত্রণায় কীটনাশক পান করে মৃত্যুবরণ করেন।
ক্রমবর্ধমান এই আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু সাঈদ আত্মহত্যার কারণগুলো অনুসন্ধানের ওপর জোর দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে সমাজসেবা বিভাগের কোনো কার্যক্রম আছে কি না তা জানতে চেয়েছেন। তবে সমাজসেবা কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, এ বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রোগ্রাম নেই।

