বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ বাসন্ডা গ্রামের বাসিন্দা সবুজ হাওলাদার সৌদি আরবে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও ইকামা-সংক্রান্ত সমস্যা কাটিয়ে শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে তার কফিনবন্দি মরদেহ দেশে পৌঁছায়। চার বছর আগে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি পাড়ি দিয়েছিলেন সবুজ। অসুস্থ মা, প্রতিবন্ধী বোন ও পাঁচ বছরের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি কঠোর পরিশ্রম করছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, সৌদি আরবের ওয়াদি আল-দাওয়াসির এলাকায় কর্মরত অবস্থায় কুষ্টিয়ার আলী ও আবুল হোসেনের কাছে সবুজের প্রায় ১০ হাজার রিয়াল পাওনা ছিল। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হন। এর আগে একবার মারধরের শিকার হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় টাকা চাইলে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে চলন্ত গাড়ির নিচে ফেলে দেওয়া হয়। ঘাতকরা তার ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিলে ঘটনাস্থলেই সবুজের মৃত্যু হয়।
সবুজের ভাতিজা সোহেল রানা অপু জানান, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ও নিষ্ঠুর উপায়ে তার চাচাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় মরদেহ সৌদি আরবের ওয়াদি আল-দাওয়াসির জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পড়ে ছিল। শনিবার সকালে বিমানবন্দর থেকে সবুজের মরদেহ গ্রহণ করেন তার বৃদ্ধ মা আনোয়ারা বেগম ও ভাতিজা সোহেল রানা। বিকেলে মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অসুস্থ মা ছেলের লাশের পাশে আহাজারি করছিলেন এবং বাড়ির উঠানে বাকপ্রতিবন্ধী বোন নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এ ঘটনায় সৌদি পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করেছে এবং অভিযুক্ত ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা বর্তমানে সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সবুজের বৃদ্ধ মা আনোয়ারা বেগম খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোসা. মুক্তা বেগম সবুজের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। তিনিও সৌদি আরবে সংঘটিত এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

