প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজে রায়পুরার উন্নয়নের একগুচ্ছ দাবি এমপি বকুলের

নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল সোমবার (২০ জুলাই) রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ও ওমেন্স চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী জান্নাতুল হক শাপলা।

সাক্ষাৎকালে বকুল এমপি প্রধানমন্ত্রীকে তার নির্বাচনী এলাকা রায়পুরার সার্বিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি রায়পুরার টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর মধ্যে মেঘনা নদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদীভাঙন রোধ এবং চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিষয়টি প্রাধান্য পায়।

এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে তিনি মেঘনা নদীতে ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান। এছাড়া ফেরি পারাপারের মাধ্যমে কুমিল্লার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, রায়পুরা শ্রীরামপুর রেল গেট থেকে ভৈরব পর্যন্ত রেললাইনের পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ এবং শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য এলাকায় গ্যাস সংযোগ স্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও নদীতীরবর্তী এলাকা স্থায়ীভাবে সুরক্ষার বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করেন।

স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও নিরাপদ করতে অভ্যন্তরীণ সড়ক উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেতু নির্মাণের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের আবেদন জানান এমপি বকুল। পাশাপাশি রায়পুরার যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দেন তিনি।

আশরাফ উদ্দিন বকুল আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই রায়পুরার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও প্রকল্পগুলো অনুমোদিত হবে। এর মাধ্যমে মেঘনাবেষ্টিত রায়পুরাকে একটি আধুনিক ও উন্নত উপজেলায় রূপান্তর করা সম্ভব হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দেশের সমৃদ্ধি অর্জনে তার ভিশনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এই সাক্ষাৎকে রায়পুরার উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা এবং এলাকায় সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এমপি বকুল বর্তমানে স্থানীয়দের কাছে বেশ প্রশংসিত হচ্ছেন। এছাড়া দলীয় নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা তাকে কৃষিপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখার জোর দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলছেন।