নারায়ণগঞ্জ নগরীর হাজীগঞ্জে অবস্থিত দেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে দুর্বৃত্তরা এই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু করেছে এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, ভোররাতে দুর্বৃত্তরা স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিলে বিষয়টি নজরে আসে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ বা তাদের কোনো সহযোগী সংগঠনের সদস্য জড়িত আছে কি না, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে এবং দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া-আদমজী সড়কের হাজীগঞ্জ এলাকায় স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছিল। গত বছরের ১৪ জুলাই তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচজন উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এর উদ্বোধন করা হয়। এটি দেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, যার আদলে পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্মৃতিস্তম্ভে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের নামসংবলিত ফলক সংযোজন করা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে উদ্বোধনের পর থেকেই স্মৃতিস্তম্ভটির পাশে ফতুল্লা মডেল থানার অধীনে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, ঘটনার সময় পুলিশ সদস্যরা ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আগুন নেভাতে পুলিশ সদস্যদের ছুটে যেতে দেখা যায়।
ওসি আরও জানান, গত ১৬ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ওই অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশ কাপড় দিয়ে সাজানো হয়েছিল। ভোররাতে দূর থেকে আগুন জ্বালানো ছোট একটি কাপড়ের দলা ছুড়ে মারলে পাশের কাপড়ে আগুন ধরে যায়। আগুনের পরিমাণ সীমিত ছিল এবং পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওসি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগুনের দৃশ্য অতিরঞ্জিত করে ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। তবে আগুন নিক্ষেপকারীরা কারা এবং কতজন ছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

