স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ, সিএনজি স্টেশনে কমেছে ভোগান্তি

টানা কয়েক সপ্তাহের সংকট কাটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও। গ্যাস নিতে গাড়ির দীর্ঘ সারি আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার যে ভোগান্তি ছিল, তা বর্তমানে অনেকটা কমে এসেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকার একাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। স্টেশনগুলোতে এখন যানবাহনের বাড়তি কোনো চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আগে যেখানে গ্যাস নেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, সেখানে এখন চালকরা ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যেই গ্যাস নিয়ে বেরিয়ে যেতে পারছেন। গ্যাসের চাপ পর্যাপ্ত থাকায় দ্রুত সরবরাহ করাও সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চালকদের ভাষ্যমতে, শুক্রবার থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় শনিবার স্টেশনগুলোতে ভিড় তুলনামূলক কম ছিল, তবে গ্যাসের চাপ আগের তুলনায় বেশ বেড়েছে। মগবাজারের অটোরিকশাচালক শাহিন জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাস নিতে তিন-চার ঘণ্টা লাইনে বসে থাকতে হওয়ায় তার দৈনিক আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শনিবার গ্যাসের চাপ ভালো থাকায় মাত্র ২০ মিনিটেই গ্যাস নিতে পেরেছেন তিনি। রুবেল নামের আরেক চালক জানান, সিএনজি পাম্পে এখন তেমন সিরিয়াল নেই। নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ বজায় থাকলে আয় কিছুটা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে মহেশখালীতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণের কাজের কারণে এলএনজি খালাসে বিলম্ব ঘটেছিল। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়, যা আবাসিক গ্রাহক, সিএনজি চালক ও শিল্প খাতের সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সরকারিভাবে আগেই জানানো হয়েছিল যে কয়েকদিনের মধ্যে এই সংকট অনেকটা কেটে যাবে। বর্তমানে রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোর পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে।